প্রয়াত বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তাঁর অগ্নিসৎকারে উপস্থিত থেকে শোকভারে ভেঙে পড়লেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চোখ ভিজে এলো স্মৃতির নদীতে ভেসে। বললেন, “আমি আমার বন্ধুকে হারালাম। ধরম সবার কাছে সুপারস্টার হলেও আমার কাছে সে ছিল বন্ধু—খুব কাছের মানুষ।”
বিশ্বজিৎ জানান, অসুস্থতার কারণে বহুদিন দেখা হয়নি তাঁদের। মৃতদেহের কাছে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, সানি ও ববি ডিউল ইচ্ছে করেই খবর দেরিতে পাঠিয়েছিলেন মিডিয়ার ভিড় এড়াতে। “ওরা আমার কাঁধে মাথা রেখে হাউহাউ করে কাঁদছিল। ওদের দেখে আমিও ভেঙে পড়েছিলাম,” বললেন তিনি।
চিতাস্থলে বিশ্বজিৎয়ের দেখা হয় সায়রা বানুর সঙ্গে। এরপর যান হেমা মালিনীর বাড়িতে। পুরনো দিনের কথা তুলতেই স্মৃতিচারণে ডুবে যান সবাই। ১৯৭৫ সালে ‘শোলে’র সময়ই ধর্মেন্দ্র-হেমা-শত্রুঘ্নকে পরিচালনা করেছিলেন বিশ্বজিৎ। হেমা মালিনীও সে কথা স্মরণ করলেন।
ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করতে গিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, “ও ছিল সৎ, নির্ভীক, স্পষ্টবক্তা মানুষ। বড়লোকি বা চাটুকারিতা সহ্য করত না। টেকনিশিয়ানদের পাওনা আদায় না হলে শুটিংই করত না।” তাঁর কথায়, ছোটবেলার দারিদ্র্যই ধর্মেন্দ্রকে মানুষের দুঃখ বুঝতে শিখিয়েছে।
বন্ধুত্বের স্মৃতি টেনে বিশ্বজিৎ বলেন, “ধরম আমাকে বিশু বলত, আর আমি ওকে ধরম।” অভিনেতার প্রিয় ছিল ফার্মহাউসের ‘সরষে কা সাগ’ আর ‘মকাই কি রোটি’। শুটিংয়ে ক্লান্তি দেখলে সবার আগে বিশুর জন্য ছাঁস দিতে বলতেন।
চিতার সামনে দাঁড়িয়ে সানিকে সান্ত্বনা দিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, “তোমাদের বাবা রথে চেপে স্বর্গযাত্রা করছেন, সেখানে তিনি রেয়াল রিসেপশন পাবেন।” সানি উত্তরে বলেন, “পাপা ওয়াজ রয়্যাল।”
ধর্মেন্দ্রের শেষ কাজ ছিল বিশ্বজিৎ পরিচালিত ‘অগ্নিযুগ: দ্য ফায়ার’। অসুস্থতার পর প্রতিদিন মেসেজ পাঠাতেন বন্ধুর আরোগ্য কামনায়। কিন্তু দেখা আর হল না। ৮ ডিসেম্বর জন্মদিনে দেখা করার প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই রয়ে গেল।







