মঙ্গলবার সকালে ফের একবার মেট্রোয় আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। দমদম স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের সামনে এক ব্যক্তি ঝাঁপ দেওয়ায় ব্লু লাইনের ডাউন শাখায় দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিষেবা ব্যাহত হয়। চরম ভোগান্তির শিকার হলেন অফিসগামী নিত্যযাত্রীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কলকাতা মেট্রো সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩১ মিনিট নাগাদ দমদম স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। ট্রেনের গতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় ব্রেক কষে মেট্রোটিকে দ্রুত থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। ওই ব্যক্তি কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলেন, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনার জেরে ব্লু লাইনের ডাউন শাখার অর্থাৎ কবি সুভাষগামী লাইনে মেট্রো চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। গিরিশ পার্ক থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু থাকলেও বাকি অংশের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে এই পরিস্থিতি বজায় থাকায় অফিস টাইমের যাত্রীদের ভিড় ও হয়রানি চরমে পৌঁছয়।
কলকাতার লাইফলাইন বলে পরিচিত মেট্রো রেলে আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা নতুন নয়। যদিও এই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ সচেতনতামূলক প্রচার থেকে শুরু করে আধুনিক লাইনগুলিতে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন গেট (পিএসজি) বসানোর মতো একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে, তবুও যে এমন প্রচেষ্টা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না, তা ফের প্রমাণিত হলো।প্রসঙ্গত, গত পাঁচ বছরের তথ্য উদ্বেগজনক। রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ জন, ২০২২ সালে ৫ জন, ২০২৩ সালে ৪ জন এবং ২০২৪ সালে সর্বাধিক ৭ জন কলকাতা মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এমনকি, ২০২৫ সালের প্রথম দু’মাসেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ২ জন আত্মহত্যা করেছিলেন। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, মেট্রোর অভ্যন্তরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।







