ক্রাইম

বিচ্ছেদের পরেও নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ! হুগলিতে প্রাক্তন স্বামীকে পিটিয়ে খুন, গ্রেফতার মা–মেয়ে

হুগলি জেলার তারকেশ্বরের কাঁরারিয়া এলাকায় প্রাক্তন দাম্পত্যকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য। বাঁশবাগান থেকে মাথা থেঁতলানো অবস্থায় উদ্ধার হল সুমন্ত শীট নামে এক যুবকের দেহ। খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী কদম মণ্ডল এবং প্রথম পক্ষের কন্যা অঙ্কিতাকে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনেই অপরাধ স্বীকার করেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

পুলিশ সূত্রের খবর, তিন বছর আগে সুমন্ত ও কদমের বিচ্ছেদ হয়। কদমের এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। প্রথম স্বামীর মৃত্যু হওয়ার পর সুমন্তের সঙ্গে সংসার পাতলেও দাম্পত্য অশান্তিতে শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় সম্পর্ক। বিচ্ছেদের পর থেকে কদম ও তাঁর মেয়ে আলাদা থাকতেন। কিন্তু অভিযোগ, সুমন্ত নিয়মিত প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিবাদ বাঁধান, অত্যাচার করতেন। মঙ্গলবার রাতেও এমনই অশান্তির সূত্রপাত হয় বলে দাবি কদমের।

জিজ্ঞাসাবাদে কদম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন সুমন্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি–ডাকাতির অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া বিবাহবিচ্ছেদের পরেও আর্থিক দাবি নিয়ে প্রাক্তন স্ত্রীর পিছনে লেগে থাকতেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, সুমন্তের কিছু সম্পত্তি বন্ধক রেখে কদম ব্যাঙ্ক ঋণ নেন। সেই টাকা ফেরতের দাবিতেই নিত্য অশান্তি বাড়ছিল।

পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাতে কদমের সঙ্গে বচসার মাঝেই সুমন্তের মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন কদম। পরে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেহটি বাড়ির পিছনের বাঁশবাগানে ফেলে আসেন। রাত দু’টো নাগাদ রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।

মৃতের বোন অঞ্জলি মিদ্যার অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। তাঁর দাবি, কদম আগের স্বামী নেপু মণ্ডলকেও খুন করেছিলেন। তাঁর কথায়, “ওর জন্য কত ছেলের জীবন নষ্ট হয়েছে! আমার দাদাকে দিয়ে ভিটে–জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিল। টাকা চাইতে গেলেই ঝামেলা, শেষে মেরেই ফেলল।”

পুলিশ পুরো ঘটনার নেপথ্যে আর্থিক লেনদেন ও দাম্পত্য-অশান্তির যোগসূত্র তদন্ত করছে। দু’জনকে আদালতে তোলা হলে হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.