উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেল। হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন উত্তর পূর্বাঞ্চল গণতান্ত্রিক জোট (NEDA)–এর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে দূরত্ব বাড়াচ্ছে বিজেপির জোট শরিকরা। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে ত্রিপুরার রাজা প্রদ্যোত মাণিক্য দেববর্মার নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ান নর্থইস্ট’।
বৃহস্পতিবার ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার বিবেকানন্দ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এই নতুন মঞ্চের প্রথম বড় শক্তিপরীক্ষা—‘ওয়ান নর্থইস্ট একতা র্যালি’। আর সেখানেই উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী আঞ্চলিক নেতারা একমঞ্চে এসে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের স্পষ্ট বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী এম এমহনলুমো কিকন, মনিপুরের নেতা আর কে মেগন, এবং আরও কয়েকজন প্রভাবশালী জনজাতি নেতা।
এমনকি মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে তিপ্রা মথা প্রধান প্রদ্যোত দেববর্মা জনজাতি সমাজের আর্থিক সংকট, সামাজিক দুঃস্থতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ঘাটতির কথা তুলে ধরেন।
পাশাপাশি তিনি ফের উল্লেখ করেন, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড দাবির বাস্তবায়ন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এছাড়াও তিনি জাতীয় দলের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কটাক্ষ ছুড়ে দেন। সেখানে তিনি তীব্র অভিযোগে দাবি করেন, দিল্লি-কেন্দ্রিক বড় দলগুলি জনজাতিদের যথাযোগ্য গুরুত্ব দেয় না। অনেক আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট করলেও পরে সেগুলিকেই রাজনৈতিকভাবে বিলীন করে দেওয়া হয়। উত্তর-পূর্বের জনজাতি নেতৃত্বের এই নতুন ঐক্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘ওয়ান নর্থইস্ট’ যদি নিজের সংগঠন শক্তিশালী করতে পারে, তবে আগামী দিনে অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড ও মনিপুরে প্রায় সব রাজ্যেরই জোট রাজনীতিতে বড় বদলের সম্ভাবনা তৈরি হবে।







