সোনার ব্রেসলেট কেনার নাম করে অনলাইন পেমেন্টের ভুয়ো প্রমাণ দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ কলকাতার নেতাজি নগর থানা এলাকার একটি সোনার দোকান থেকে দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি মূল্যের ব্রেসলেট নিয়ে চম্পট দিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশের তৎপরতায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্ত। উদ্ধার হয়েছে প্রতারিত সেই সোনার গয়নাও।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ অক্টোবর। সন্ধ্যা প্রায় ৮টা নাগাদ এক ব্যক্তি রাজা এসসি মল্লিক রোডের একটি সোনার দোকানে ঢোকেন। নিজেকে ক্রেতা পরিচয় দিয়ে দোকানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন গয়না দেখার পর একটি সোনার ব্রেসলেট পছন্দ করেন। ওই ব্রেসলেটটির ওজন ছিল ৯.৮ গ্রাম। দাম ধার্য হয় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা।
অভিযোগ, দাম মেটানোর সময় ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি অনলাইন মাধ্যমে টাকা দিয়ে দিয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে দোকানের কর্মীদের একটি মোবাইল মেসেজও দেখান। সেই বার্তা দেখে দোকান কর্তৃপক্ষ ভরসা করে ব্রেসলেটটি তাঁর হাতে তুলে দেয়। এর পরেই তিনি দ্রুত দোকান থেকে বেরিয়ে যান।
কিছুক্ষণ পর দোকানের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়, আদৌ কোনও টাকা জমা পড়েনি। তখনই সন্দেহ ঘনীভূত হয়। যাচাই করে বোঝা যায়, দেখানো অনলাইন পেমেন্টের মেসেজটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ২০ অক্টোবর নেতাজি নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোকান কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র মারফত অভিযুক্তের খোঁজ চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম বিশাল চোপড়া। তিনি বেকারি রোডের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর কাছ থেকেই প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া সোনার ব্রেসলেটটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







