I-PAC মামলার শুনানিতে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইডি-র হয়ে সওয়াল করলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়।
সওয়ালের শুরুতেই তুষার মেহেতা প্রশ্ন তোলেন, I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমার কীভাবে সেখানে প্রবেশ করেন। তাঁর যুক্তি, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে চলমান ইডি তল্লাশির মধ্যে ঢুকে পড়তে পারেন এবং ইডি যে নথিপত্র খতিয়ে দেখছিল, তা কীভাবে সেখান থেকে নিয়ে আসা হয়।
এরপর গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির সময় ঘটে যাওয়া গোটা ঘটনাপ্রবাহ সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে তুলে ধরেন সলিসিটর জেনারেল। বিচারপতিদের সামনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কপি পেশ করে তিনি দাবি করেন, সেদিন দলের লিগাল সেলের তরফে জমায়েত করার বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
তুষার মেহেতার অভিযোগ, হাইকোর্টে শুনানির দিন রাজ্যের আইনমন্ত্রী প্রায় পাঁচশো জনকে নিয়ে আদালত চত্বরে উপস্থিত হন। সওয়াল-জবাবের মাঝেই স্লোগান শুরু হয় এবং পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শুনানি মুলতুবি রাখতে বাধ্য হন আদালত। এই প্রসঙ্গে বিচারপতিদের সামনে প্রশ্ন তোলেন তিনি— “আদালত কি যন্তর মন্তরে পরিণত হয়েছে?”
ইডি-র তরফে তল্লাশির সময় তোলা একাধিক ছবি আদালতে জমা দেওয়া হয়। বিচারপতিরা সেই ছবিগুলি খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে হলফনামা পেশ করার কথাও জানান সলিসিটর জেনারেল। ইডি-র বক্তব্য শোনার পর বিচারপতিরা জানান, কলকাতা হাইকোর্টে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তাঁরা অত্যন্ত বিরক্ত।
ঝামেলার কারণে হাইকোর্টে সেদিন শুনানি সম্ভব হয়নি— এই বিষয়টি মেনে নেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বলও।
ইডি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তদন্ত চলাকালীন এই ধরনের হস্তক্ষেপ একটি ‘প্যাটার্ন’-এ পরিণত হয়েছে। তদন্ত শুরু হলেই হইহট্টগোল করে গোটা প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। সলিসিটর জেনারেল আরও প্রশ্ন তোলেন, তৎকালীন সিপি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী ধরনায় বসেছিলেন এবং সেই সময় সিপিও ধরনায় বসেন— যা কীভাবে সম্ভব?
শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং রাজ্য পুলিশ— উভয়ই স্বনিয়ন্ত্রিত সংস্থা। তাদের মধ্যে সংঘাত কোনওভাবেই কাম্য নয়। আদালত নির্দেশ দেয়, মামলার সব পক্ষকেই হলফনামা জমা দিতে হবে।
পরবর্তী শুনানি ৩ ফেব্রুয়ারি। তার আগে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পক্ষকে হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।







