প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন, রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ঘোষণা করা হল এ বছরের পদ্মসম্মান প্রাপকদের নাম। এ বছর পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী— এই তিন বিভাগে মোট ১৩১ জনকে সম্মানিত করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে বাংলা থেকে রয়েছেন ১১ জন। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বলিউড থেকেও তিনজন তারকা জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়।
এ বছর মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হচ্ছে বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে। পদ্মভূষণ পাচ্ছেন জনপ্রিয় গায়িকা অলকা যাজ্ঞিক এবং পদ্মশ্রী সম্মান পাচ্ছেন অভিনেতা আর মাধবন।
বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে পরিচিত ধর্মেন্দ্র গত বছরের ২৪ নভেম্বর প্রয়াত হন। প্রায় ছ’দশক ধরে রুপোলি পর্দায় তাঁর অবাধ দাপট ছিল। ৩০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু হলেও প্রকৃত সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফুল অউর পত্থর’ ছবির মাধ্যমে। মীনা কুমারীর সঙ্গে অভিনীত সেই ছবির পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘সত্যকাম’, ‘শোলে’, ‘আঁখে’, ‘কর্তব্য’-সহ একাধিক স্মরণীয় ছবিতে অভিনয় করে হিন্দি ছবির ইতিহাসে নিজের জায়গা পাকা করে নেন তিনি। তাঁর শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ মুক্তির আগেই প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
পদ্মভূষণ পাচ্ছেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অলকা যাজ্ঞিক। প্রায় দু’হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন তিনি, গেয়েছেন অন্তত ১৬টি ভাষায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মুম্বইয়ে পা রাখা অলকার কেরিয়ারে মোড় ঘোরে ‘তেজাব’ ছবির ‘এক দো তিন’ গানটির মাধ্যমে। নব্বইয়ের দশকে কুমার শানু ও উদিত নারায়ণের সঙ্গে তাঁর গানের জুটি তৈরি করে একের পর এক সুপারহিট গান। ডিজিটাল যুগেও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউটিউবে অলকার গান শোনা হয়েছে প্রায় ১,৫৩০ কোটি বার। সেই সুবাদে তিনি পেয়েছেন ‘মোস্ট স্ট্রিমড আর্টিস্ট অন ইউটিউব’ খেতাব।
পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন অভিনেতা আর মাধবন। নব্বইয়ের দশকে যাঁরা বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে মাধবনের জনপ্রিয়তা আজও স্মরণীয়। দক্ষিণী ছবিতে কেরিয়ার গড়ার পর ‘রহনা হ্যায় তেরে দিল ম্যায়’ ছবির মাধ্যমে দেশজোড়া পরিচিতি পান তিনি। প্রেমিক চরিত্র থেকে শুরু করে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ফারহান কিংবা সাম্প্রতিক ‘ধুরন্ধর’ ছবির অজয় স্যান্যাল— প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন মাধবন। এ বার পদ্মশ্রী সম্মান তাঁর দীর্ঘ ও বহুমুখী অভিনয়জীবনেরই স্বীকৃতি।







