নিজস্ব সংবাদদাতা: বুধবার দুর্গাপুরে বিজেপির কর্মী সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের ‘হয়রানি’ প্রসঙ্গে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই দায় ঠেলে দেন তিনি। নিতিনের অভিযোগ, প্রশাসনিক আধিকারিকদের ব্যবহার করে রাজ্যের মানুষকে হেনস্থা করছেন মমতাই।
এদিন দুর্গাপুরের সভায় নিতিন বলেন, ‘‘মমতাদিদি নিজে খেলা দেখাচ্ছেন। রাজ্যের মানুষকে হেনস্থা করছেন।’’ তাঁর দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় পদক্ষেপে রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাই যুক্ত, অথচ মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন। বিজেপি সভাপতির কথায়, ‘‘আপনার ডিএম, এসপি, এসডিও-রাই তো কমিশনের লোক হিসেবে এখানে বসে আছেন। তাঁদের পুতুল হিসেবে ব্যবহার করে আপনি মানুষকে হেনস্থা করছেন।’’
নিতিন নবীনের দাবি, যুবক, ভদ্রলোক থেকে শুরু করে চিকিৎসকদেরও ডিএম ও এসডিও অফিসে ডেকে পাঠিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। অথচ সেই দায় চাপানো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের উপর। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এটাই কি গণতন্ত্র?’’
এদিন নিতিন আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের নন, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছেন, তাঁদের এই রাজ্যের মাটিতে কোনও অধিকার থাকতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গে অধিকার শুধুই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের।’’
রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘‘জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকদের আমি স্পষ্ট করে বলছি—এই সরকার আর বেশিদিন নেই। এই সরকারের পুতুল হয়ে কাজ করবেন না।’’ প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, ‘‘আপনারা প্রশাসনের লোক, সঠিক দিশায় কাজ করুন। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করুন। জনতা আপনাদের পাশে থাকবে।’’
উল্লেখ্য, এসআইআর সংক্রান্ত প্রতিবাদ জানাতে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাওয়ার কথা থাকলেও, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জেরে সেই সফর বাতিল করেন তিনি। তবে সেই তথ্য নিতিন নবীনের কাছে তখনও পৌঁছয়নি। ফলে দুর্গাপুরের ভাষণে নিতিন বলেন, ‘‘তিনি এখন দিল্লি গিয়ে কাঁদছেন। বলছেন নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না।’’
এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে নিতিন নবীনের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের পারদ চড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







