চাপের মুখে নয়, বরং আইসিসির কাছ থেকে বিশেষ কিছু ‘অফার’ পাওয়ার পরেই ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান—এমনই দাবি করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর সূত্র। পাক বোর্ডের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ম্যাচে অংশগ্রহণের বদলে আইসিসির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পেতে চলেছে পাকিস্তান। যদিও সেই সুবিধাগুলি কী, তা বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না আইসিসি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিসিবি-র এক কর্তা বলেন,
“ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে রাজি হওয়ার বিনিময়ে আমাদের বিশেষ কিছু অফার দেওয়া হয়েছে। আইসিসি পাকিস্তানকে কিছু বাড়তি সুবিধা দেবে। তবে বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই বিষয়ে কিছু জানানো হবে না।”
যদিও পিসিবি-র এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, আইসিসির তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
রবিবার আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পিসিবি প্রধান নকভি। বৈঠকের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন নকভি। এরপরই ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পাকিস্তান সরকার।
সূত্রের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন পিসিবি প্রধান নকভি নিজেই। জানা যাচ্ছে, তিনি বাংলাদেশ বোর্ডের প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অনুরোধ করেন, যাতে পাকিস্তানকে ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিকেই ভিত্তি করে ম্যাচে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়। তবে তার আগে প্রায় আটদিন ধরে চলেছে বিস্তর দর কষাকষি।
সেই আলোচনার মধ্যেই নাকি ঠিক হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার হুমকি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং বাংলাদেশ ২০৩১ সালের আগে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রেও তাদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
সূত্রের খবর, পাকিস্তানের তরফে আরও কিছু দাবি ছিল, যা আইসিসি খারিজ করে দেয়। তা সত্ত্বেও পিসিবি-র এক শীর্ষ কর্তার দাবি, বিশেষ ‘অফার’ পাওয়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান দল।







