মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জুড়ে নিরাপত্তা ইস্যুতে বড়সড় চাঞ্চল্য। নাশকতার ষড়যন্ত্র ও পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পৃথক অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একদিকে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল মালদহ থেকে দু’জনকে ধরেছে, অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে বেঙ্গল এসটিএফ পাক-যোগের অভিযোগে দু’যুবককে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
মুর্শিদাবাদে পাক-যোগের অভিযোগ
মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুহাব শেখকে গত সপ্তাহে গ্রেফতার করে বেঙ্গল এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, তাকে জেরা করেই উঠে আসে বছর চব্বিশের সুমন শেখের নাম।
বুধবার বহরমপুরের গির্জার মোড় এলাকা থেকে প্রথমে সুমনকে আটক করা হয়। পরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ—
ধৃত দু’জনই সিম কার্ড বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সাধারণ মানুষের নথি ব্যবহার করে একাধিক সিম তোলা হত।
সেই নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা হত।
ভেরিফিকেশনের ওটিপি পাকিস্তানের ‘হ্যান্ডলারদের’ পাঠানো হত।
বিনিময়ে অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত।
তদন্তকারীদের মতে, এভাবে ভারতে সক্রিয় একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হত।
অন্যদিকে সুমনের পরিবারের দাবি, তিনি বহরমপুরে ডেলিভারির কাজ করতেন এবং এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। সুমনের মা মেনকা বিবি বলেন, “কীসের জন্য ছেলেকে ধরেছে, আমাদের কিছু জানানো হয়নি।”
জেঠু গোলাম হোসেনের অভিযোগ, ইংরেজিতে লেখা কাগজে সই করানো হয়েছে, কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা জানানো হয়নি।
মালদহে দিল্লি পুলিশের অভিযান
এর আগেই মালদহে বড়সড় অভিযান চালায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় উমর ফারুক ও রবিউল ইসলামকে।
উমর মালদহের বাসিন্দা।
রবিউল বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি তদন্তকারীদের।
নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে সীমান্ত পারাপার ও সন্দেহজনক যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
পরপর গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিরোধীদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী জেলায় নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায়ই এই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সিম ও ওটিপি পাচারের মতো কৌশল সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।
তদন্ত চলছে
চার অভিযুক্তকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানও শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে পেশের পরেই পরিষ্কার হবে এই চক্রের বিস্তার কতদূর।







