দিল্লির বহুচর্চিত আবগারি কেলেঙ্কারি মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Arvind Kejriwal। ২০২১-২২ সালের দিল্লি আবগারি নীতি ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস দিল বিশেষ আদালত। একইসঙ্গে প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী Manish Sisodia-সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কেজরিওয়াল। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, একদিন হঠাৎই তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। “সেই আঘাত আমাকে নাড়াতে পারেনি,” দাবি তাঁর। তবে প্রায় দু’বছর পর সম্পূর্ণ খালাস পাওয়ার পর কথা বলতে গিয়েই গলা ভেঙে আসে তাঁর। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মনীশ সিসোদিয়া এগিয়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।
কী ছিল অভিযোগ?
২০২১-২২ সালের দিল্লি আবগারি নীতিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা Central Bureau of Investigation (সিবিআই)। অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে লাইসেন্স ফি কমানো এবং মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর ফলে দিল্লি সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ‘কিকব্যাক’-এর লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ওই নীতি বাতিল করে দেয় দিল্লি সরকার।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিশেষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তদন্তকারী সংস্থা একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের কাহিনি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ছিল অনুমাননির্ভর—সুস্পষ্ট প্রমাণভিত্তিক নয়। বিচারকের মতে, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই প্রাথমিকভাবে অপরাধের প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
আদালত আরও জানায়, আবগারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনও সামগ্রিক অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি। নীতিগত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ আনার মতো উপযুক্ত তথ্য বা নথি আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ দাবি
রায় ঘোষণার পর কেজরিওয়াল দাবি করেন, গোটা ঘটনাই ছিল তাঁকে এবং তাঁর দল Aam Aadmi Party-কে শেষ করে দেওয়ার বৃহৎ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাঁর কথায়, দলকে ভাঙতে পাঁচ শীর্ষ নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, “ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে পদে থাকাকালীন এক মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ছ’মাস বন্দি রাখা হয়।” প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া প্রায় দু’বছর জেলে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কেজরিওয়ালের দাবি, আদালত তাঁকে ‘কট্টর সৎ’ বলেই আখ্যা দিয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা ভোটের আগে এই মামলার তদন্ত ঘিরে প্রবল চাপে ছিল আম আদমি পার্টি। প্রথমে গ্রেফতার করা হয় মনীশ সিসোদিয়াকে, পরে গ্রেফতার হন কেজরিওয়াল। জামিন পেলেও আদালতের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে পারেননি তিনি।
এই রায়কে আম আদমি পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক মহল। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই খালাস দলীয় ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।







