লা লিগার শিরোপা দৌড়ে নিজেদের চাপ বজায় রাখল বার্সেলোনা। সেভিয়াকে ৫–২ গোলে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ৪-এই ধরে রাখল কাতালান ক্লাবটি। তবে ম্যাচের ফলাফলের বাইরে গিয়েও কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিল সেভিয়া। বার্সার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি বিশেষ পোস্টে তারা তুলে ধরেছে কলকাতার দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের নাম।
ফুটবল যেন এক অদৃশ্য সেতু—যা দূর ইউরোপের মাঠকে মুহূর্তে জুড়ে দেয় গঙ্গাপাড়ের শহর কলকাতার আবেগের সঙ্গে। সেই আবেগের কথাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল স্পেনের ক্লাব সেভিয়া। বার্সেলোনার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উঠে আসে কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন দুই ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের উল্লেখ।
কলকাতায় যেমন পাড়ার মোড়, চায়ের দোকান কিংবা ক্লাব ঘিরে ফুটবল নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই, তেমনই স্পেনেও সেভিয়া বনাম বার্সেলোনার ম্যাচ ঘিরে থাকে প্রবল উত্তেজনা ও আলোচনা। দুই ক্লাবের দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে শহরের আবহাওয়াই যেন বদলে যায়। সেই মিলের কথাই তুলে ধরেছে সেভিয়া তাদের পোস্টে। একইসঙ্গে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের কাছ থেকেও সমর্থন চেয়েছে তারা।
এই পোস্ট কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যেন এক ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ইউরোপীয় লিগের ম্যাচে কলকাতার সমর্থকেরা যেমন নিজেদের পছন্দের দল বেছে নেন, তেমনি বিদেশি ক্লাবগুলিও ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছে—এই শহরের হৃদস্পন্দনের সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক কতটা গভীর। পোস্টে দেখা যায়, একটি জার্সির দোকানে সামনে সারিতেই রাখা রয়েছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী জার্সি। ক্যাপশনে লেখা, “কলকাতায় খেলার প্রতি ভালোবাসা সবার।”
পোস্টটি ঘিরে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়াও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ লিখেছেন, “মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ক্লাব।” আবার অন্য একজনের মন্তব্য, “ভারতীয় ফুটবলের অস্তিত্ব টিকে আছে এই দুই ক্লাবের জন্যই।” অনেকের মতে, এই পোস্ট প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবল সত্যিই এক সর্বজনীন ভাষা।
অন্যদিকে মাঠের খেলায় দাপট দেখিয়েছে বার্সেলোনা। কোচ হান্সি ফ্লিকের দল সেভিয়াকে ৫–২ গোলে হারায়। জয়ের নায়ক রাফিনহা, যিনি হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। বার্সার হয়ে বাকি দুটি গোল করেন দানি অলমো ও জোয়াও কাভাকো। সেভিয়ার হয়ে দুটি গোল শোধ করেন ওসো ও জিব্রিল সো।
ম্যাচের ফল যাই হোক, সেভিয়ার সেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবলের আবেগ কোনও ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকে না; স্পেন থেকে কলকাতা, সবখানেই তার ভাষা এক।







