পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার মঞ্চ থেকে শনিবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরালো রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। একদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধার অভিযোগে রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ, অন্যদিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আশ্বাস— এই দুই কৌশলেই বাংলার ভোট-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
দিনের প্রথম জনসভা থেকেই মোদীর নিশানায় ছিল রাজ্য সরকার। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে Ayushman Bharat প্রকল্প নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘৪ মে ভোটের ফলাফলের পর বিজেপি সরকার গড়লেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে— এটি মোদীর গ্যারান্টি।’ পাশাপাশি ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে লক্ষ লক্ষ কারিগর এর সুবিধা পেলেও বাংলার শিল্পীরা রাজনৈতিক বাধার কারণে বঞ্চিত।
তবে এ দিনের সভার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল মতুয়া ও শরণার্থী প্রসঙ্গ। সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনে সরাসরি বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, মতুয়া বা নমঃশূদ্ররা কারও দয়ার উপর নির্ভরশীল নন; দেশের সংবিধান তাদের অধিকার সুরক্ষিত করেছে। সেইসঙ্গে Citizenship Amendment Act (সিএএ)-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশ্বাস দেন, নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া আগামী দিনে আরও দ্রুত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজারহাট-নিউটাউন থেকে বনগাঁ— মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে সাম্প্রতিক অস্বস্তি বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কাটোয়ার মঞ্চ থেকেই সরাসরি বার্তা দিয়ে সেই ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করলেন মোদী। উন্নয়ন ও নাগরিকত্ব— এই দুই ইস্যুকেই সামনে রেখে বিজেপি যে নির্বাচনী লড়াইকে নতুন আকার দিতে চাইছে, তা এ দিনের ভাষণ থেকেই স্পষ্ট।
এখন নজর একটাই— প্রধানমন্ত্রীর এই ডবল বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে এবং ছাব্বিশের নির্বাচনে তার প্রতিফলন কীভাবে দেখা যাবে।







