সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খেল দেশের শেয়ারবাজার। সোমবার সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র পতনের মুখে পড়ে দেশের দুই প্রধান সূচক—Sensex এবং Nifty 50। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে Donald Trump-এর হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত কড়া অবস্থান এবং তেলের দামের হঠাৎ উল্লম্ফন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।
দিনের শুরুতেই তিরিশটি শেয়ারের সূচক সেনসেক্স ১,৬১৩.০৯ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়ায় ৭৫,৯৩৭.১৬-এ। অন্যদিকে পঞ্চাশটি শেয়ারের সূচক নিফটিও ৪৬১ পয়েন্ট নেমে খুলেছে ২৩,৫৮৯.৬০-তে। আগের সেশনে এই দুই সূচক যথাক্রমে ৭৭,৫৫০.২৫ এবং ২৪,০৫০.৬০-তে বন্ধ হয়েছিল।
শুরুর লেনদেনেই বাজারের ভিত কতটা দুর্বল, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। জাতীয় শেয়ারবাজারে মোট ২,৪০৯টি শেয়ার পড়েছে, বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ২৭৫টি—যা বাজারে প্রবল বিক্রির চাপেরই ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়াই এই পতনের প্রধান কারণ। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ায় হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলারে পৌঁছনোয় বিশ্বজুড়ে বাজারে চাপ বেড়েছে। তেলের দামের এই উত্থান আমদানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক, যার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও।
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য বড় বাজারেও সোমবার দেখা গিয়েছে একই প্রবণতা।
জাপানের নিক্কেই সূচক পড়েছে ৫৩৯.১১ পয়েন্ট
হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমেছে ২৬৬.৫৪ পয়েন্ট
দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক নেমেছে ৭১.২০ পয়েন্ট
সাংহাই সূচকেও দেখা গিয়েছে নিম্নমুখী প্রবণতা
বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?
যদিও বাজারে বড় পতন দেখা গিয়েছে, তবুও কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছেন বিদেশি ও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা। ৯ এপ্রিল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৬৭২.০৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন, পাশাপাশি দেশীয় সংস্থাগুলিও ৪১০.০৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক নির্ভর। তাই আগামী কয়েকদিন বাজার কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেলের দামের গতিপ্রকৃতির উপর।
নজরে কী?
হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত পরিস্থিতি
মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
অপরিশোধিত তেলের দাম
বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ
সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শুরুতেই দালাল স্ট্রিটে বড় ধাক্কা। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর—এই পতন সাময়িক, নাকি আরও বড় সংশোধনের ইঙ্গিত?







