কলকাতার ফুটবল মহলে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। মঙ্গলবার শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগানের প্রাক্তন কর্তা ও ‘মোহনবাগান রত্ন’ টুটু বসু। সোমবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরবিদায় নিলেন আধুনিক মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট-এর অন্যতম প্রধান রূপকার।
টুটু বসুর প্রয়াণের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আনেন তাঁর নাতি অরিঞ্জয় বসু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি যে টুটু বসু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি ছিলেন সেরা বাবা ও ঠাকুরদা, একজন অসাধারণ প্রশাসক এবং আমাদের পরিবারের শক্তির স্তম্ভ।” এই বার্তার পর থেকেই শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে ময়দানে।
মোহনবাগান এবং টুটু বসু—এই দুই নাম প্রায় তিন দশক ধরে ছিল একে অপরের পরিপূরক। ১৯৯১ সালে কিংবদন্তি ধীরেন দে-র উত্তরসূরি হিসেবে ক্লাবের সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। সেই সময় আর্থিক ও প্রশাসনিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা মোহনবাগানকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যান তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব।
পরবর্তীকালে অঞ্জন মিত্র-র সঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক জুটি ময়দানে প্রায় কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। ক্লাবে স্বচ্ছ ভোট ব্যবস্থা চালু করা, পরিকাঠামোর উন্নয়ন, কর্পোরেট বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়া—একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশেষ করে RPSG Group-এর সঙ্গে মোহনবাগানের সংযুক্তিকরণের অন্যতম স্থপতি হিসেবেও তাঁকে মনে করা হয়।
২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন টুটু বসু। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও, সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন ক্লাবের অভিভাবক। বিদেশি ফুটবলার চুক্তি থেকে শুরু করে আর্থিক সংকট—ক্লাবের প্রতিটি কঠিন সময়ে সামনে থেকেছেন তিনি।
তাঁর প্রয়াণে শুধু মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট নয়, শোকপ্রকাশ করেছে ইস্টবেঙ্গল এফসি এবং মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-ও। ময়দানের একাধিক কর্তার কথায়, “কলকাতা ফুটবল আজ একজন বড় হৃদয়ের মানুষকে হারাল।”
একটা যুগের শেষ হল। সবুজ-মেরুনের ইতিহাসে টুটু বসুর নাম থেকে যাবে স্বর্ণাক্ষরে।







