পাকিস্তানে ফের রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার ঘটনা সামনে এল। একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ চলাকালীন ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। আহতদের অনেকের অবস্থাই সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য চলার সময় আচমকাই ভিড়ের মধ্যে থাকা এক ব্যক্তি নিজের শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক উড়িয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া, ধ্বংসাবশেষ এবং আতঙ্ক। বিস্ফোরণের জেরে সভামঞ্চের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি দোকান ও যানবাহনও ভেঙে যায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য, বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবা চালু করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে রক্তদানের আবেদন জানানো হয়েছে।
হামলার পর গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কোনও জঙ্গি সংগঠনের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ সরকারি কর্তারা। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এই হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।







