গলা-বুক জ্বালা, পেটে ব্যথা বা পেট ফাঁপা— এই উপসর্গগুলি দেখলেই অনেকেই ধরে নেন অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা হয়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই অ্যান্টাসিড খাওয়ার অভ্যাসও কমবেশি অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একই লক্ষণের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে কিডনিতে পাথর। সময়মতো রোগ ধরা না পড়লে পরে তা গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র আলাদা অঙ্গ হলেও স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে। কিডনিতে পাথর তৈরি হলে সেখানকার স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠাতে পারে, যা অনেক সময় পাকস্থলীর সমস্যার মতোই অনুভূত হয়। ফলে রোগী বুঝতেই পারেন না যে সমস্যার আসল উৎস কিডনি।
দুই ক্ষেত্রেই পেটে অস্বস্তি, চাপ চাপ ব্যথা, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া, এমনকি পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই মিলের কারণেই অম্বল ও কিডনিতে পাথরের লক্ষণ অনেক সময় একে অপরের সঙ্গে গুলিয়ে যায়।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও রয়েছে। অম্বলের ক্ষেত্রে সাধারণত বুকের মাঝখান বা উপরের অংশে জ্বালাপোড়া হয়, যা অনেক সময় গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, কিডনিতে পাথর হলে ব্যথা সাধারণত কোমর বা পিঠের পাশ থেকে শুরু হয়ে তলপেট, কুঁচকি বা পায়ের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবে রক্ত বা প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কম জল পান করা এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস— বিশেষ করে অতিরিক্ত ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার— অম্বল যেমন বাড়ায়, তেমনই কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের উপসর্গ থাকলে শুধুমাত্র অ্যান্টাসিড খেয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: পেটে ব্যথা বা বুক জ্বালাকে হালকাভাবে না নিয়ে, প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করিয়ে রোগের সঠিক কারণ জানা জরুরি। কারণ, সময়মতো কিডনিতে পাথর ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ এবং জটিলতার ঝুঁকিও কমে।







