পকেট থেকে একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি। বার্ধক্যে চিকিৎসার জন্য কারও কাছে হাত পাততেও হয়নি। ৭০ বছর বয়সে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ের অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন জলপাইগুড়ির এক বৃদ্ধ। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় এই চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রোগী ও তাঁর পরিবার।
জলপাইগুড়িতে শুরু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের পরিষেবা। জেলার অর্থোপেডিক বিভাগে প্রথম দিনেই একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে এই প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হল। প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচের চিকিৎসা বিনা পয়সায় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সত্তরের বৃদ্ধ।
জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের ডাউকিমারি গ্রামের বাসিন্দা রমানন্দ সরকার (৭০)। হাটে হাটে কলা বিক্রি করেই সংসার চালান তিনি। দু’দিন আগে শৌচালয়ে যাওয়ার সময় আচমকা পা পিছলে পড়ে যান। পরে এক্স-রে করানোর পর জানা যায়, তাঁর হিপ জয়েন্টের বল ভেঙে গিয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় কার্যত কষ্টে দিন কাটছিল তাঁর।
সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষা করতে হলে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নার্সিংহোমে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হবে। বিপুল খরচের কথা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবার।
এই পরিস্থিতিতেই পরিবারের কাছে থাকা আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের কথা মনে পড়ে। এরপর তাঁরা জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন তিস্তা নার্সিংহোমে যোগাযোগ করেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে সঙ্গে সঙ্গেই রমানন্দবাবুকে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাতেই তাঁর সফল অস্ত্রোপচার করেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডঃ কমলেশ বিশ্বাস।
বিনামূল্যে এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে স্বভাবতই আপ্লুত বৃদ্ধের পরিবার। তাঁদের বক্তব্য, এই প্রকল্পের ফলে বড় অঙ্কের চিকিৎসা খরচের চাপ থেকে তাঁরা রেহাই পেয়েছেন।
অর্থোপেডিক সার্জন ডঃ কমলেশ বিশ্বাস জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনেই অস্ত্রোপচারটি হয়েছে। ডুয়ার্স অঞ্চলে এই প্রকল্পের আওতায় এটিই প্রথম অর্থোপেডিক সার্জারি বলে দাবি তাঁর। হিপের বল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই রোগী হাঁটতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ তৈরি হয়েছে।







