ট্রেন বাতিল, আর তার জেরেই যাত্রীদের পকেটে বড় ধাক্কা! উত্তরবঙ্গের রেল পরিষেবা ব্যাহত হতেই কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার বাসভাড়া রাতারাতি বেড়ে কয়েক গুণ। যে যাত্রার জন্য আগের দিন গড়ে ₹১৬০০ খরচ হচ্ছিল, শুক্রবার সকালে সেই টিকিটের দাম কোথাও কোথাও পৌঁছে গিয়েছে ₹৪০০০ থেকে ₹৫০০০-এ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাসভাড়াই কি এবার বিমানের ভাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু করল?
নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনে ধস নামার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগে বড়সড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাওড়া-মালদহ ডিভিশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রাতের দিকে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়। শুক্রবারও ফরাক্কা হয়ে যাতায়াতকারী বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
ট্রেন নেই, তাই ভরসা বাস—আর সেখানেই বিপত্তি
রেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাসের টিকিট কাটতে ছুটছেন যাত্রীরা। আর সেই বাড়তি চাহিদার সুযোগেই বেড়েছে বাসের ভাড়া। অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্মে শিলিগুড়িগামী একাধিক বাসের টিকিটের দাম দেখে কার্যত চোখ কপালে উঠছে যাত্রীদের।
শুক্রবার রাতের শ্যামলী পরিবহণের একটি বাসের ভাড়া প্রায় ₹৫০০০ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ইজি রাইডে ভাড়া প্রায় ₹৪৪৫০। সাধারণ সময়ে যে রুটে ভাড়া অনেকটাই কম, সেখানে আচমকা এতটা বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ‘ডায়নামিক ফেয়ার’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দামও বাড়তে থাকে।
সরকারি বাস কাউন্টারেও উপচে পড়া ভিড়
ট্রেন বাতিলের প্রভাব পড়েছে ধর্মতলার সরকারি বাস কাউন্টারেও। রাত থেকেই সেখানে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একাধিক বাস ছেড়েছে। বেলা ১১টা নাগাদ একটি বাস বহরমপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখান থেকে যাত্রীদের নিজেদের গন্তব্যে যাওয়ার কথা।
যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন বন্ধ হওয়ার পর বেসরকারি বাসগুলির ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাঁদের উত্তরবঙ্গে যেতেই হবে, তাঁদের সামনে কার্যত বাড়তি খরচ করা ছাড়া উপায় থাকছে না।
শিলিগুড়িতেও একই ছবি
শুধু কলকাতা নয়, শিলিগুড়িতেও ট্রেন বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বাস ও বিমানের ভাড়া। পর্যটন মহলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি-কলকাতা রুটে বাসভাড়া গড়ে ₹১৬০০-এর আশপাশে ছিল। শুক্রবার সকালেই তা বেড়ে ₹৩০০০ থেকে ₹৫০০০-এর মধ্যে পৌঁছেছে।
পর্যটন সংস্থাগুলির পক্ষে সম্রাট সান্যাল জানিয়েছেন, ডায়নামিক প্রাইসিংয়ের কারণে চাহিদা বাড়লে ভাড়া বাড়ে। তবে এই পরিস্থিতিতে ভাড়া যাতে মাত্রাতিরিক্ত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমকে অতিরিক্ত বাস চালানোরও অনুরোধ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, রেলপথে ধসের জেরে একদিকে বাতিলের পর বাতিল ট্রেন, অন্যদিকে বিকল্প পথে যাতায়াতের খরচ আকাশছোঁয়া। উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীদের কাছে শুক্রবারের যাত্রা তাই শুধু ভোগান্তির নয়, পকেটে বড়সড় চাপেরও।







