কেন্দ্র

মৎস্যশিল্পে বড় বরাদ্দ, কেন্দ্রের ৯ কোটি পেল বাংলা! ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র আওতায় রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যশিল্পের উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় এবার রাজ্য পেল ৯ কোটি টাকা। সোমবার নিউটাউনের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এদিন থেকেই ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র আওতায় যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে রাজ্যের মৎস্যজীবীরা এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও এ বিষয়ে একই সুরে বক্তব্য রাখেন।

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মৎস্যদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। প্রায় দেড় ঘণ্টার আলোচনায় রাজ্যের মৎস্যশিল্পের উন্নয়ন-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যে মৎস্যশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই কেন্দ্রের সঙ্গে বারবার আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং রাজ্যের দাবিদাওয়া শুনে মৎস্যশিল্পের উন্নয়নে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ পাওয়ার সুযোগও পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগেই এই সুবিধা রাজ্য পেতে পারত। কিন্তু আগের সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি কার্যকর করেনি। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকারফ ক্ষমতায় আসার পর গত চার মাসে যতটা সম্ভব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজ্যের মৎস্যক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। সুন্দরবন-সহ উপকূলীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণবঙ্গের নদী ও সমুদ্র সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মৎস্যচাষের সুযোগ রয়েছে। তবে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো তুলনামূলক শুষ্ক জেলাগুলিতে মাছচাষে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্যা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব মেনে ওই দুই জেলায় মোট ছ’টি অমৃত সরোবরের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, নতুন রাজ্য সরকারের প্রশংসা করতে গিয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হলেও রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সহযোগিতা না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। যে কাজ পাঁচ বছর ধরে আটকে ছিল, নতুন সরকারের আমলে মাত্র চার মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.