খেলাধুলা

৪ অক্টোবরই শেষ আগরকর-অধ্যায়, নতুন নির্বাচকপ্রধানের দৌড়ে পার্থিব-প্রজ্ঞানদের সঙ্গে একাধিক নাম

জাতীয় নির্বাচকপ্রধানের পদে অজিত আগরকর আর থাকছেন না—বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভার পর থেকেই এমন জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এবার সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর দিল বিসিসিআই। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, আগামী ৪ অক্টোবরই প্রধান নির্বাচক হিসেবে আগরকরের তিন বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর পর দ্রুত নতুন নির্বাচকপ্রধান নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে বোর্ড।

৪ অক্টোবর আগরকরের তিন বছরের কার্যকাল পূর্ণ হবে। বোর্ডের সাধারণ সভাতেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আর থাকতে আগ্রহী নন। ফলে মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। এর আগে অবশ্য জল্পনা ছিল, আগামী বছর যেহেতু ওয়ানডে বিশ্বকাপ রয়েছে, তাই আগরকরের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হতে পারে। কিন্তু রোহিত শর্মার অবসর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে যায়। রোহিতের মতো অভিজ্ঞ তারকাকে অবসরের বিষয়ে নির্বাচকদের ভূমিকা নিয়ে বোর্ডের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে খবর। এর মধ্যেই আগরকর নিজেই পদে না থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

আগরকরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তাঁর কথায়, “৪ অক্টোবরের পরেই প্রধান নির্বাচকের শূন্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।”

এদিকে আগরকরের উত্তরসূরি খোঁজার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে বিসিসিআই। প্রাথমিকভাবে দু’টি নাম নিয়েও আলোচনা চলছে বলে খবর। তাঁরা হলেন প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটার পার্থিব প্যাটেল এবং প্রাক্তন বাঁ-হাতি স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা। এই দু’জনের মধ্যে কাউকে জাতীয় নির্বাচকপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।

তবে সম্ভাব্য উত্তরসূরির তালিকায় আরও কয়েকটি বড় নাম উঠে আসছে। ভিভিএস লক্ষ্মণ, অনিল কুম্বলে এবং রাহুল দ্রাবিড়ের নামও রয়েছে আলোচনায়।

লক্ষ্মণের নাম সামনে আসার অন্যতম কারণ, গৌতম গম্ভীরের পর ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েও তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান লক্ষ্মণ এর আগে একাধিকবার অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবেও ভারতীয় দলের দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে জাতীয় দলের পরিবেশ তাঁর কাছে অপরিচিত নয়। যদিও দীর্ঘমেয়াদি বড় দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ কতটা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে ভারতীয় ক্রিকেটে ক্রিকেটার ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই অনিল কুম্বলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নির্বাচনী দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

রাহুল দ্রাবিড়ের নামও এই দৌড়ে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রতিভা চিহ্নিত করা এবং তাঁদের তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্রিকেটের আধুনিক ভাবনাচিন্তার সঙ্গেও তিনি পরিচিত। ভারতীয় দলের সঙ্গে কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। গৌতম গম্ভীর এবং দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছেও দ্রাবিড়ের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এখন দেখার, তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে রাজি করাতে পারে কি না বিসিসিআই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.