রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বাংলাকে পরিচ্ছন্ন ও জঞ্জালমুক্ত রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক কড়া পদক্ষেপ করেছেন। সেই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, রাস্তায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, ফুটপাত দখল করে রাখা কিংবা বেআইনিভাবে পার্কিং—কোনও কিছুই বরদাস্ত করা হবে না। পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম চোখে পড়লেই সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করছেন মন্ত্রী।
শুক্রবারও বর্ধমান শহরের বিসি রোডে আচমকা পরিদর্শনে যান অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে রাস্তার দু’পাশে বেআইনি পার্কিং দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুত বিসি রোড দখলমুক্ত করার জন্য পুরসভাকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
অভিযোগ, বিসি রোডের ফুটপাতের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। সেই দখল বর্তমানে ফুটপাত পেরিয়ে রাস্তার কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তার দুই ধারে সারি দিয়ে রাখা রয়েছে বাইক ও সাইকেল। তার উপর দোকানের পসরা রাস্তার বেশ কিছুটা অংশ জুড়ে থাকায় যান চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় বিষয়টি নজরে আসতেই বর্ধমান পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিককে কড়া নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা।
মন্ত্রী জানান, ফুটপাতের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ পথচারীদের চলাচলের জন্য খালি রাখতে হবে। রাস্তার উপর অপরিকল্পিতভাবে রাখা বাইক ও সাইকেল সরানোর নির্দেশও দেন তিনি। পাশাপাশি বিসি রোডের কোথাও যাতে আবর্জনা পড়ে না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে বলেন। অগ্নিমিত্রার নির্দেশ, আগামী দু’দিনের মধ্যেই বিসি রোড পরিষ্কার করে দখলমুক্ত করতে হবে। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দু’দিন পর ফের বর্ধমানে এসে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার কথাও জানান তিনি।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, কার্জন গেটের এই রাস্তা ঐতিহাসিক এবং বর্ধমানের ‘জানলা’ হিসেবে পরিচিত। তাই রাস্তা নোংরা না করার আবেদন জানান তিনি। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ডাস্টবিন বসানো হবে বলেও জানান মন্ত্রী। যেখানে ড্রেনের উপর স্ল্যাব নেই, সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মানার নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশ আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান অগ্নিমিত্রা। দু’দিন পর ফের এসে কার্জন গেটের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত গোটা এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে চান তিনি।
এদিকে, বিসি রোডের কার্জন গেট এলাকায় পার্কিং সমস্যা নতুন নয়। ২০১৯ সালে কার্জন গেট চত্বরে একটি পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তৎকালীন বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৈরি ওই পার্কিংয়ের নাম রাখা হয়েছিল ‘ম্যান্ডেলা পার্ক’। তবে প্রায় দু’বছর আগে সেই পার্কিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর তা চালু হয়নি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও পার্কিং ব্যবস্থা ফের চালু করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ।







