দেশ

স্টেডিয়ামের পর এবার বিমানবন্দরও মোদির নামে! যোগী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, কোথায় হচ্ছে নতুন নামকরণ?

স্টেডিয়ামের পর এবার বিমানবন্দর! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে দেশের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নামকরণের প্রস্তাবে সিলমোহর দিল বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ সরকার। নয়ডার কাছে জেওয়ারে তৈরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে ‘নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নয়ডা-জেওয়ার’ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ঘোষণার পরেই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।

এর আগে গুজরাতের আহমেদাবাদে মোতেরা স্টেডিয়ামের নাম বদলে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম রাখা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার উত্তরপ্রদেশেও একই ধরনের পদক্ষেপ সামনে আসায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কী ঘোষণা করলেন যোগী আদিত্যনাথ?

রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, জেওয়ারে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরের নাম ‘নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নয়ডা-জেওয়ার’ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

যোগী সরকারের বক্তব্য, এই বিমানবন্দর উত্তরপ্রদেশের বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলির অন্যতম হয়ে উঠবে এবং দেশের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদনের পর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

কোথায় এই বিমানবন্দর?

নয়ডার কাছে জেওয়ার এলাকায় তৈরি হয়েছে এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। উত্তরপ্রদেশের বিমান পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ মার্চ বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে ১৫ জুন লখনউ থেকে আসা ইন্ডিগোর একটি বিমানের অবতরণের মাধ্যমে সেখানে বিমান পরিষেবা শুরু হয় বলে জানানো হয়েছে।

নামকরণ ঘিরে কেন আলোচনা?

জেওয়ার বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। গুজরাতের মোদি স্টেডিয়ামের নামকরণের প্রসঙ্গও ফিরে এসেছে আলোচনায়। জীবিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিকাঠামোর নামকরণ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য কী, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন মত রয়েছে। আপাতত নজর, প্রস্তাবটি অনুমোদনের পর নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় এবং বিমানবন্দরটি আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.