মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আর পৃথক থাকছে না। সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে একীভূত করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দিয়ে তা স্কুল সার্ভিস কমিশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দফতরের সূত্রের খবর, এবার থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জন্য পৃথক কোনও প্রক্রিয়া থাকবে না। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই নিয়োগ করা হতে পারে। তবে তার আগে একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালের ‘মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন’ অনুযায়ী এই কমিশনের পথচলা শুরু হয়েছিল। রাজ্যের স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগের দায়িত্ব ছিল এই কমিশনের হাতে। গত কয়েক বছরেও এই কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়েছে। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সেই জল্পনাই ফের সামনে এসেছে।
স্কুলশিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক বুধবার জানান, সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
বিজেপির শিক্ষক নেতা পিন্টু পাড়ুই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশে ‘এক দেশ, এক শিক্ষা’ ব্যবস্থা থাকা দরকার। তাঁর মতে, গোটা দেশে একটি শিক্ষা বোর্ড থাকলে সব ধর্মের পড়ুয়ারা সমান সুযোগ ও অধিকার পাবে। তাঁর দাবি, পৃথক কমিশন তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সেই পথেই প্রথম পদক্ষেপ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদকেও তুলে দিয়ে একটি অভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চালু করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, বাম আমল থেকেই মাদ্রাসা আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, মাদ্রাসাগুলির উন্নয়ন এবং পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎই তাঁদের লক্ষ্য। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকলে তাঁরা তার বিরোধিতা করবেন।






