ভারত ছাড়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান। সোমবার মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর দুপুর ৩টেয় মামলাটির শুনানি হবে। বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর বা এফআরআরও-র জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’ অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার কথা ইমরানের। তাই মঙ্গলবারের শুনানি অভিনেতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি মার্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান। সেই কর্মসূচি থেকেই অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও আটক করা হয়। অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশি সংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করেছেন অভিনেতা।
এরপর গত ১৪ অক্টোবর ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করে এফআরআরও। ১৭ অক্টোবর তাঁকে পাঠানো হয় শো-কজ নোটিস। সেখানে ইমরানের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া বা ওসিআই কার্ডের নথিভুক্তি বাতিল করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়।
এফআরআরও-র এই নির্দেশের বিরোধিতা করে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন অভিনেতা। তাঁর আবেদনে ভারত ছাড়ার নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক, স্বেচ্ছাচারী ও অনুপাতহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে নির্দেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশ থেকে বহিষ্কার-সহ কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ যাতে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া না হয়, তার জন্য অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও চেয়েছেন ইমরান।
অভিনেতার হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন প্রবীণ আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ধোন্ড। এর আগে তিনি আদালতে জানিয়েছিলেন, মাত্র দু’বছর বয়স থেকেই ভারতে বসবাস করছেন ইমরান। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক পূর্ব ইতিহাস নেই বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত এম শেঠনার বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। ইমরানের আইনজীবী জানান, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার সঙ্গে আলোচনার পর শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। তুষার মেহতার আপত্তি না থাকায় আদালত শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতুবি করে।
এদিকে, ইমরানকে আটক করার পর বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া তাঁর বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। জানা গিয়েছে, পুলিশের পাঠানো একটি অপ্রমাণিত এফআইআরের ভিত্তিতেই এফআরআরও ইমরানকে ভারত ছাড়ার নোটিস দেয়। এখন মঙ্গলবারের শুনানিতে বম্বে হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।







