মুখ্যমন্ত্রীর অজান্তে নাকি কোন দুর্নীতি হয়নি! এমনটাই দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ‘অধীর চৌধুরী’। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি, সমস্তটাই নাকি জানতেন ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’। শুধু দুর্নীতি নয়, দুর্গাপুজোর অনুমতি দেওয়া নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে নানা ভাবে কটাক্ষ করলেন তিনি।
সম্প্রতি শিক্ষকদের জন্য আনা বিল নিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন,”হঠাত্ করে শিক্ষকদের বিল আনার কী কারণ তা আমার জানা নেই। শিক্ষককূল আজ বঞ্চিত হচ্ছেন, লাঞ্ছিত হচ্ছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের চাকরি হচ্ছে না। তার জন্য হাইকোর্ট নির্দেশ দিচ্ছে এটার সিবিআই তদন্ত করার জন্য। তাই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি আজ সাধারণ মানুষের সামনে এসেছে।
মন্ত্রী ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে রেশন দুর্নীতি অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বলেন,”মন্ত্রী-শান্ত্রি সবাই এগুলো জানে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সবকিছু জানেন। মুখ্যমন্ত্রীর অগোচরে বাংলায় কোনও দুর্নীতি হয়নি, সেটা রেশনই হোক আর সেটা ভাষনই হোক।ভয়ঙ্কর দুর্নীতি হয়েছে, মানুষের খাবার কেড়ে নেয়া হয়েছে। শিশুদের খাবার না দিয়ে বাংলাতে লুট হয়েছে।”
এরই পাশাপাশি পুজো মণ্ডপ গুলিকে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজো উপলক্ষে ৭০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে পুজো কমিটির হাতে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় অনেক মানুষের বক্তব্য, ১০০ বছরে প্রাচীন হলেও সে অনুদানের টাকা এ বছর পাওয়া যায়নি। এছাড়াও দুর্গা পুজোর অনুমতির দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সরকারের প্রচণ্ড পরিমাণে টালবাহানা করেছিল।
কান্দি পুরসভার কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাইকে তৃণমূলে যোগদান করানোর প্রক্রিয়া হয়ে গেছে। এগুলো হচ্ছে নির্বাচনের প্রক্রিয়া। তৃণমূলের বাইরে যারা আছে সেটা নির্দল হতে পারে, তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে প্রতিবাদী হলেও, সবাইকে আজ তৃণমূল হতে হবে। এটা পরিকল্পিতভাবে সারা মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে এখানকার প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী প্রশাসনকে কাজে লাগানো হচ্ছে। ভার দেওয়া হয়েছে ডিআইজিকে। লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসবে, এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে”।
সবশেষে প্রবল কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন,”বাংলায় আজ এটাই চলে, কামদুনি হয় বিচার হয় না। কারণ সেই দুর্গাদের আজকে দাম নেই। দেবী দুর্গাকে আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি, ভক্তি করি, প্রণাম করি। কিন্তু দেবী দুর্গাকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করি না। বাংলার দিদি এখন দেবী দুর্গাকে গ্রাস করতে চাইছেন।”
দিকে দিকে আজ বাংলার মা বোনেরা ধর্ষিতা হচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা কোথায়? তাদের সুরক্ষা কোথায়? এইরকম একাধিক প্রশ্ন ও কটাক্ষ মূলক উক্তি মুখ্যমন্ত্রীর দিকে ছুড়ে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধু্রী।







