গত অক্টোবরে, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে পেগাসাস সফটওয়্যার নামের একটি সফটওয়্যারের সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকার বেআইনি নজরদারি করছে কি না খতিয়ে দেখার জন্য ভারতের সর্বোচ্চ আদালত একটি তদন্তের নির্দেশ দেয়। অনেকগুলি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছিল আদালতের সেই তদন্তের নির্দেশ।
এক বছর পর আবারও উঠে এলো কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ: দেশের বাছাই-করা নাগরিকদের কার্যকলাপের উপর নজর রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যারকে নজরদারির অস্ত্রে পরিণত করা হয়েছে । সম্প্রতি কিছু বিরোধী নেতা এবং সাংবাদিকের ফোনে একই সঙ্গে অ্যাপল থেকে একটি ‘অ্যালার্ট নোটিফিকেশন’ আসার পরই বিষয়টি প্রকাশ্য হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেন্দ্র, তবে মুখে করা অস্বীকার দিয়ে বেশি দূর এগোনো মুশকিল।
যেহেতু বারবার একই অভিযোগ উঠছে এবং একই ধরনের সন্দেহজনক স্পাইওয়্যারের সন্ধান মিলছে তাই কিছু একটা যে ঘটছে সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পর আদালত দ্বারা নিযুক্ত কমিটি কোনও নিশ্চিত সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়। তবে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে যে এই ব্যাপারে খুব একটা সহযোগিতা করা হয়নি সেটি উঠে এসেছে কমিটি-রিপোর্টে।
কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত নিশ্চয়ই তাঁরা করবেন। কিন্তু তাঁর কথায় ভরসা রাখতে পারলে কিছুটা স্বস্তি মিলত।
প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খড়্গে, শশী তারুর, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, সিপিএম-এর সীতারাম ইয়েচুরি, শিব সেনার প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী, আপ-এর রাঘব চড্ডা সকলেই ‘অ্যালার্ট’ পেলেন সেই সময়ে, যখন সামনে অনেকগুলি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, এবং অদূরেই জাতীয় নির্বাচন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গতিবিধির উপর নজর রাখায় পক্ষের স্বার্থ পূরণ হতে পারে কি।







