তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণের জন্য বাধ্যতামূলক মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং কাঠামোগত নকশা ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই তথ্য সামনে আসতেই গোটা অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পুরসভা সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনার পর নথিপত্র খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও ভবনের নকশায় গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁদের মতে, নির্মাণের আগে যথাযথ প্রযুক্তিগত যাচাই হলে সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই ধরা পড়তে পারত।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দ্রুত পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় নথি সম্পূর্ণ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নির্মাণের ছাড়পত্র মিলল, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পুরসভার একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে অনুমোদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব এতটাই ছিল যে, তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে অনেক আধিকারিকই অনীহা দেখাতেন। ফলে বেশ কিছু নির্মাণ প্রকল্পে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলেও সেগুলি গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ।
এখন শুধু তারাতলার দুর্ঘটনাই নয়, একই সময়ে অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য বড় নির্মাণ প্রকল্পগুলিরও পুনরায় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নিরীক্ষার দাবি উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি অনুমোদনের নথি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা এবং পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন নজর প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।







