রাজ্য

টেন্ডার দুর্নীতি থেকে পুজোর পাস বিক্রি, একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন! ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতের আর্জি

প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে নতুন করে চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে। টেন্ডার দুর্নীতি, আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম এবং দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের ডিডি স্পেশাল সেল। বুধবার ইডির দফতর থেকে বেরোনোর পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ইন্দ্রনীলকে ১২ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর আইনজীবী।

কী অভিযোগ তদন্তকারীদের?

কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিভিন্ন নামী মণ্ডপ পরিদর্শনের পাস বিলি ও বিক্রি ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয় বলে জানা গিয়েছে।

মামলার সরকারি আইনজীবীর দাবি, ২৪টি পুজোকে ইউনেস্কো বেছে নেয়নি, বরং ম্যাসার্ট নামে একটি সংস্থা সেগুলি নির্বাচন করেছিল। ২০২৫ সালে চুক্তি হলেও ২০২২ সাল থেকেই টাকা তোলার অভিযোগও আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবীর আরও দাবি, এক সংস্থার কাছে টাকা যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সংস্থা থেকে আবার মন্ত্রীর কাছে টাকা পাঠানো হচ্ছিল। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ইন্দ্রনীল সেনের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে দাবি পুলিশের।

পুজো কার্নিভাল ও বইমেলার আয়োজন ঘিরেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও বিচারাধীন।

ইন্দ্রনীলের আইনজীবীর পাল্টা দাবি

আদালতে ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, পরের দিন সুপ্রিম কোর্টে মামলা থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি গ্রেফতার করা হয়েছে। ইন্দ্রনীল পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন না এবং তদন্তে অসহযোগিতাও করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

ফোন বন্ধ থাকার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনজীবী। তাঁর দাবি, ইডি ইন্দ্রনীলের ফোন বাজেয়াপ্ত করেছিল। তাই ফোন সুইচড অফ পাওয়া গেলেও সেটিকে তদন্তে অসহযোগিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। পুজোর পাস বিলির দায়িত্বেও ইন্দ্রনীল ছিলেন না বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে।

## তিন সংস্থার সঙ্গে যোগ নিয়ে প্রশ্ন

ম্যাসার্ট, গিডি ক্রিয়েশন এবং থার্ড লাইন—এই তিনটি সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী। তাঁর আরও যুক্তি, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ট্রেজারার ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ইন্দ্রনীলকে পুলিশ হেফাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এখন নজর তদন্তে

একদিকে পুলিশ আর্থিক লেনদেন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার সূত্র খুঁজতে ইন্দ্রনীল সেনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে, অন্যদিকে তাঁর আইনজীবী গ্রেফতারির প্রয়োজনীয়তা এবং অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আদালত শেষ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর।

উল্লেখ্য, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশেই এই মামলার গতিপথ স্পষ্ট হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.