স্টার থিয়েটারের নাম বদল করে বিনোদিনী থিয়েটার করা হবে বলে সন্দেশখালির সভা থেকে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই তৎপরতা শুরু কলকাতা পৌর সংস্থার। তড়িঘড়ি স্টার থিয়েটারের নাম পরিবর্তন করতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নাম বদলের সিদ্ধান্ত কে কার্যকরী করল পৌর কর্তৃপক্ষ। থিয়েটারের নাম পরিবর্তন করে বিনোদিনী থিয়েটারের নামকরণ করা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল কলকাতা পৌর সংস্থা। স্টার থিয়েটারের নাম সরিয়ে বিনোদিনী থিয়েটারের বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানালেন মেয়র পরিষদ হেরিটেজ বিভাগ স্বপন সমাদ্দার। মেয়র পরিষদ হেরিটেজ বিভাগ স্বপন সমাদ্দার জানান , “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণায় আমরা খুশি। তিনি তার ইতিহাস কে সাক্ষী রেখেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।”এই বিষয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতোই তারা তা কার্যকরী করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে ফলক পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানালেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ।
প্রসঙ্গত নটি বিনোদিনী সমাজের সকল স্তরের মানুষকে তার অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ করেছিলেন। তার প্রশংসকদের তালিকায় ছিলেন রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, ফাদার লাঁফো, এডুইন আরনল্ড, কর্ণেল অলকট প্রমুখ। রামকৃষ্ণদেব তার চৈতন্যলীলার অভিনয় দেখে তাকে গ্রীনরুমে গিয়ে চৈতন্য হোক বলে আশীর্বাদ করেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার উপন্যাসের চরিত্রগুলিকে বিনোদিনীর মধ্যে দিয়ে সফলভাবে গড়ে উঠতে দেখেছিলেন। তার অভিনয়ের গুরু গিরিশচন্দ্র ঘোষ তার বহু প্রশংসা করেছিলেন। বিনোদিনীর ত্যাগ স্বীকারে যে নতুন থিয়েটার তৈরি হয় বিনোদিনীর নাম তাতে থাকেনি। এই নতুন থিয়েটারের নাম হয় স্টার থিয়েটার। এই বিশ্বাসঘাতকতায় বিনোদিনী দুঃখে বেদনায় ভেঙে পড়ে ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দে মাত্র ২২-২৩ বছর বয়েসে তিনি রঙ্গমঞ্চ ত্যাগ করে যান। তারপর দীর্ঘদিন জীবিত থাকলেও কখনও অভিনয়ে ফিরে আসেননি। ফলে বাংলা থিয়েটার বঞ্চিত হয় এক অসামান্য অভিনেত্রীর প্রতিভা এবং অভিনয় থেকে। কিন্তু আজকে থিয়েটারের জগতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্টার থিয়েটারের নাম বিনোদিনী থিয়েটার করার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী এবং এই সিদ্ধান্ত কে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমস্ত স্তরের মানুষ।







