পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (IB) নাকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পাঠিয়েছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত চার প্রভাবশালী নেতা-নেত্রী ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করেছেন এবং সেখানে অবৈধ নির্মাণ করেছেন।
রিপোর্টে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক, কাউন্সিলর শাম্মি জাহান এবং প্রয়াত বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ।
আইবির রিপোর্ট অনুযায়ী, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর স্ত্রী নাকি আলিপুরের জোহুরা বিবি ওয়াকফ এস্টেটের পাঁচ বিঘারও বেশি জমি দখল করে সেখানে একটি মার্বেলের শোরুম চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, সাংসদ নাদিমুল হকের বিরুদ্ধে তালবাগান রোডে ওয়াকফের প্রায় ২২ কাঠা জমি ‘কবজা’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রয়াত বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ সাহেবুল্লা ওয়াকফ এস্টেটে তিন হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট দখল করেছিলেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, কাউন্সিলর শাম্মি জাহানের বিরুদ্ধে হাজরা রোডে টিপু সুলতান গোরস্থানের ওয়াকফ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে ঠিক কতটা জমি বা সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠার পরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, “এটা আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। ইডি-সিবিআই দিয়ে কাজ না হওয়ায় এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।” কাউন্সিলর শাম্মি জাহানও এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি ওয়াকফ বোর্ডের কেউ নই, এই রিপোর্ট কোথা থেকে এলো তা বুঝতে পারছি না।”
রিপোর্টে নাকি বাম জমানায় পুলিশের কাছে জমা পড়া কিছু অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে এক প্রোমোটার ও ফিরহাদ হাকিমের ‘ঘনিষ্ঠতা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো এফআইআর দায়ের হয়নি বলেই খবর। এখন দেখার, এই অভিযোগ জল কতদূর গড়ায়।







