ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কলকাতায়—যেখানে ৮০ বছর আগে জাপানি বোমারু বিমানের হামলার স্মৃতি এখনও ইতিহাসে স্পষ্ট। ম্যাঙ্গো লেন, খিদিরপুর, হাতিবাগান, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটসহ বহু জায়গা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। সেই সময় জরুরি আশ্রয়ের জন্য শহরে কিছু বাঙ্কার থাকলেও, বর্তমানে কলকাতায় কোনও কার্যকর বাঙ্কার বা সর্বজনীন আশ্রয়স্থল নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে শহরের একমাত্র ভরসা হতে পারে কলকাতার ভূগর্ভস্থ মেট্রো রেল ব্যবস্থা। পলিমাটি দিয়ে তৈরি শহরের নিচে মেট্রো স্টেশনগুলো মাটির ৩–৫ মিটার গভীরে অবস্থিত, যা বোমার সরাসরি প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। বিস্ফোরণের তাপও এত গভীরে পৌঁছাতে পারে না, ‘কুশন এফেক্ট’ তৈরি করে সুরক্ষার আশ্বাস দেয়।
পুরাতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে বহু পুরনো বাড়ির খিলানযুক্ত নিচের তলাও বাঙ্কারের মতো ব্যবহার হত। তবে সেসব এখন অপ্রস্তুত ও অপ্রচলিত।
ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক থাকলেও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, যতদিন না যুদ্ধ বাস্তবতা হয়ে ওঠে, ততদিন মেট্রো স্টেশনগুলিকে আপৎকালীন নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে চিহ্নিত রাখা শহরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
শহরের ঘনবসতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিকাঠামো আরও শক্তপোক্ত করার দাবিও উঠছে।







