পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরায় জীবন জ্যোতি নার্সিং হোমে এক ১২ বছরের কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃত কিশোরের বাড়ি এগরা ১ নম্বর ব্লকের শীপুর গ্রামে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং পরিবারের একমাত্র পুত্র সন্তান ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও নার্সিং হোমে কোনও চাইল্ড স্পেশালিস্ট উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন গাইনোকলজিস্ট, ডা. অমৃত মন্ডলকে। এই ভুল চিকিৎসার জেরেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগ, বিষয়টি পরিবারকে জানানো পর্যন্ত হয়নি।
মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই নার্সিং হোম চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিশোরের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা নার্সিং হোম চত্বরে ভাঙচুর চালান এবং ডাক্তারের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে এগরা থানার আইসি বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এগরার বিভিন্ন নার্সিং হোম দালাল চক্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা যোগ্য চিকিৎসক ছাড়াই চলছে চিকিৎসা পরিষেবা। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরলেও, প্রশ্ন উঠেছে নার্সিং হোমগুলোর কাজকর্ম এবং চিকিৎসার মান নিয়ে।







