আকাশে আতঙ্ক! জ্বালানি ফুরিয়ে আসছে, রানওয়ে ছুঁতেই না ছুঁতেই হঠাৎ আর নেমে না এসে সাঁই সাঁই করে উঠে গেল বিমান। মুহূর্তেই ককপিট থেকে কন্ট্রোল রুমে ভেসে এল তীব্র বিপদের সংকেত — MAYDAY!
আবারও রক্তচাপ চড়িয়ে দিল একটি যাত্রীবাহী বিমান। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় গুয়াহাটির আকাশ থেকে চেন্নাইগামী IndiGo-র বিমান 6E-6764-এ এমনই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির জন্ম হল। ১৬৮ জন যাত্রী নিয়ে বিমানের চেন্নাইয়ে নামার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে ল্যান্ডিং গিয়ার ছোঁয়ানো মাত্রই বিমানের পাইলটরা বুঝতে পারেন—বিপদ ঘনিয়ে এসেছে! সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেন জরুরি সংকেত।
পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে শুরু করে। চেন্নাইয়ের বদলে বিমানের গন্তব্য হয়ে ওঠে বেঙ্গালুরু। ঝড়ের বেগে শুরু হয় জরুরি অবতরণের তোড়জোড়। পাইলটরা সিদ্ধান্ত নেন “Go-Around” অর্থাৎ বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার তুলে নতুন করে অবতরণের চেষ্টা। মাঝ আকাশে ঘোরাফেরা করে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে দ্বিতীয় বার MAYDAY বার্তা পাঠানো হয়।
পথিমধ্যে কেঁপে ওঠে কেবিন। যাত্রীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই বিমানটি এমন জোরে উঁচুতে উঠতে শুরু করে যে আসনে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ কেউ ভয়ে চোখ বুজে ফেলেন, কেউ প্রার্থনায় মগ্ন হন। চারদিকে থমথমে আতঙ্ক।
জানা গিয়েছে, ওই সময় বিমানে জ্বালানি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই অবস্থায় পাইলটদের সাহসিকতায় রাত ৮টা ২৫ মিনিট নাগাদ নিরাপদে বেঙ্গালুরুতে নামানো হয় বিমানটি। বিমানবন্দরে আগে থেকেই তৈরি রাখা হয় দমকল, চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবা। কোনও বড় দুর্ঘটনা না ঘটায় স্বস্তিতে বাঁচেন সকলে।
IndiGo-র তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাইলটদের আপাতত ডিউটি রোস্টার থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে ভারতের বিমান পরিষেবা ব্যবস্থা। আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই একের পর এক বিপত্তি। শুক্রবার আরও একটি IndiGo বিমানে মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
একই প্রশ্ন ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে—ভারতের আকাশ কি আর নিরাপদ?







