দেশ

লড়াই চালিয়ে যান। অবশেষে পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁকে।

‘‘নিজেকে বলছিলাম, আমাকে বাঁচতেই হবে!’’—তরুণীর মুখে বিভীষিকার গল্প

হিমাচল প্রদেশের মন্ডী জেলার শরন গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছিলেন বছর কুড়ির তুনেজা ঠাকুর। পাঁচ ঘণ্টা ধরে কাদা ও পাথরের স্তূপের নীচে আটকে ছিলেন তিনি। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু হাল না ছেড়ে প্রাণপণে দু’হাতে কাদামাটি সরিয়ে

গত ৩০ জুন গভীর রাতে ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ধস নামে সেরাজ উপত্যকার শরন গ্রামে। একের পর এক বাড়িতে ঢুকে পড়ে বন্যার জল। প্রাণভয়ে ঘর ছাড়ার চেষ্টা করলেও ধসের নীচে চাপা পড়ে যান তুনেজা। তাঁর কথায়, “প্রতি সেকেন্ড যেন মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছিলাম। একটাই কথা বলছিলাম নিজেকে— আমাকে বাঁচতেই হবে।”

তাঁর এই সাহসিকতা ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন হিমাচলের উপ-মুখ্যমন্ত্রী মুকেশ অগ্নিহোত্রী এবং বিরোধী নেতা জয়রাম ঠাকুর। গত সপ্তাহে তাঁরা দেখা করেন তুনেজার সঙ্গে।

এদিকে হিমাচলে বর্ষার তাণ্ডব থামার নাম নেই। রাজ্য জুড়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। নিখোঁজ অন্তত ৩৫। শুধুমাত্র মন্ডী জেলাতেই খোঁজ মিলছে না ৩০ জনের। গত দুই সপ্তাহে রাজ্য জুড়ে ঘটেছে ২৩টি হড়পা বান, ১৯টি মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ১৬টি ভূমিধস। প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।

এ যেন প্রকৃতির বিরুদ্ধে এক অবিরাম লড়াই— আর তুনেজা সেই লড়াইয়ের জীবন্ত সাক্ষী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.