দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে চমক! অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিলেন জগদীপ ধনকড়। আর এরপরেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা— কে হতে চলেছেন দেশের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি?
সূত্রের খবর, আপাতত রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংই সাময়িকভাবে সামলাবেন উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদে তাঁকেই স্থায়ীভাবে বসাতে চাইছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। কারণ? নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ এই জেডিইউ নেতাকে উপরাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে বিহারে ২০২৫-র ভোটের আগে কৌশলী চাল দিতে চাইছে বিজেপি।
তবে শুধুই হরিবংশ নন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও একাধিক হেভিওয়েট নেতা। উঠে আসছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নামও। বয়স ৭৫ ছুঁইছুঁই, আরএসএসের অবসরের অঘোষিত সীমা মাথায় রেখে তাঁকে একপ্রকার ‘সংবিধানিক মর্যাদা’ দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইতে পারে গেরুয়া শিবির। আবার রাজনৈতিক অঙ্কে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও এই পদের জন্য বিবেচনা করার কথা উঠছে বিজেপির অন্দরেই।
সামাজিক মাধ্যমে জোর চর্চা কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নাম নিয়েও। রাজনৈতিক ভাবে তিনি এখনও কংগ্রেসেই থাকলেও, মোদির ভূয়সী প্রশংসা আর তাঁর পরিমিত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। বিজেপি চাইলে তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে ‘দলগত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে’ ওঠার বার্তাও দিতে পারে।
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি কী?
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবলমাত্র লোকসভা এবং রাজ্যসভার সদস্যরাই ভোট দিয়ে থাকেন। এই নির্বাচনে মনোনীত সদস্যদেরও ভোটাধিকার রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো এখানে রাজ্য বিধানসভার বিধায়কদের কোনও ভূমিকা থাকে না।
এই পদ শূন্য হলে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করাতে হয়। অর্থাৎ আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশ পেতে চলেছে এক নতুন উপরাষ্ট্রপতি।
কে হবেন সেই ব্যক্তি? হরিবংশ, রাজনাথ, নীতীশ না কি শশী?
রাজনীতি এখন অপেক্ষায়— পরবর্তী ধাক্কার।







