কলকাতা হাইকোর্টে আজ, ৪ আগস্ট, উঠে আসছে এক গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন—শিক্ষকদের কি সত্যিই পাঠদানের বাইরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা উচিত? প্রাথমিক শিক্ষকরা বহুদিন ধরেই BLO (Booth Level Officer) ডিউটি থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে আসছেন। অবশেষে, এই বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকে তাকিয়ে গোটা শিক্ষা মহল।
BLO দায়িত্ব মানে শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নয়, বরং সময়সাপেক্ষ এক প্রশাসনিক পরিকাঠামো। অভিযোগ, এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা বলছেন, স্কুলের সময় বাদ দিয়েও দীর্ঘক্ষণ ফিল্ডে কাজ করতে হয়, ক্লাসের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে না, ছাত্রদের প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগও কমে যাচ্ছে।
বিষয়টির সাংবিধানিক দিকও রয়েছে। শিক্ষকদের পক্ষের আইনজীবীরা বারবার তুলে ধরছেন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ—পাঠদানের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, এমন কোনও কাজের দায়িত্ব শিক্ষকের উপর চাপানো যায় না। অথচ রাজ্য সরকারের বক্তব্য, BLO দায়িত্ব শিক্ষকদের সামলানো সম্ভব।
এদিকে যারা ডিউটি এড়িয়ে চলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া। আজ বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে উঠছে সেই রায়।
শুধু প্রাথমিক স্তরে নয়, এই রায় ভবিষ্যতে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের জন্যও দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। আদালত কী সিদ্ধান্ত নেন—তা শিক্ষা ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করবে, না কি নতুন করে বিতর্ক উসকে দেবে, সেটাই এখন দেখার।







