দেশরাজনীতি

বিজেপি বনাম বিজেপি: ভোটযুদ্ধে চূড়ান্ত চমক রাজধানীতে

নয়াদিল্লির মর্যাদাপূর্ণ কনস্টিটিউশন ক্লাবের নির্বাচন এবারে রীতিমতো নজর কাড়ল রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে। সচিব (প্রশাসন) পদে মুখোমুখি হলেন দুই হেভিওয়েট বিজেপি নেতা—বিহারের সাংসদ রাজীবপ্রতাপ রুডি ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান। দীর্ঘ পঁচিশ বছরের মধ্যে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিরল, যা এবারে ভোটের মাঠে দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত ৩৯২ ভোট পেয়ে জয় ছিনিয়ে নিলেন রুডি, আর ২৯০ ভোটে থামলেন বালিয়ান। ব্যবধান—১০২ ভোট।

২০০০ সাল থেকেই সচিব পদে রুডির দখল থাকলেও এবারের লড়াই ছিল চ্যালেঞ্জিং। রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা, বালিয়ানের পেছনে সমর্থন ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। শাহকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানাতে একজোট হয়েছিলেন বিরোধী শিবির, একমাত্র আরজেডি ছাড়া। এমনকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও রুডির পাশে দাঁড়ান। প্রায় ১,৩০০ ভোটারের মধ্যে এদিন ভোট দেন ৭০০-র বেশি—এর মধ্যে সাড়ে ৬০০-র বেশি ব্যালট ভোট এবং প্রায় ৪০ পোস্টাল ব্যালট। রাত গভীর পর্যন্ত ভোটগণনার উত্তেজনা ছড়ায় দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায়।

এই ভোটযুদ্ধ সংসদ ভবনেও পৌঁছে যায়। অধিবেশনের বিরতিতে অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে—সকলেই উপস্থিত থেকে ভোট দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদরা ভোট দিতে আসেন, যা প্রায় আড়াই দশকের মধ্যে বিরল দৃশ্য। কনস্টিটিউশন ক্লাবের সদস্য হতে পারেন শুধু দুই কক্ষের সাংসদরা।

অন্যদিকে, সচিব (ক্রীড়া) পদে রাজীব শুক্লা, সচিব (সংস্কৃতি) পদে ত্রিচি শিবা এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জিতেন্দ্র রেড্ডি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কার্যনির্বাহী সদস্যের ১১টি আসনের জন্য লড়াই হয় ১৪ জনের মধ্যে, যেখানে তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও জয় পান। ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এর আগে ২০০৯ সালে রুডি, বিজেপি বনাম বিজেপি লড়াইয়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন সাংসদ রামনাথ কোবিন্দকে হারিয়েছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.