রাজ্য

বিহারের শহিদ মন্দির: ধর্মের ভেদাভেদ নেই, পূজা-শ্রদ্ধার সঙ্গে মিলছে সেনাবাহিনীতে যোগদানের অনুপ্রেরণা

স্বাধীনতার জন্য অসংখ্য বীর তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইতিহাসে কিছু শহিদ চিরস্মরণীয় হলেও, অনেকের নাম রয়ে গেছে অজানায়। স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে তাঁদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হলেও, বিহারের বেগুসরাই জেলার পারনা গ্রামে প্রতিদিনই শহিদদের স্মরণ ও পূজা করা হয়—যেন তাঁরা দেব-দেবীরই সমান।

প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে রয়েছে এক অনন্য মন্দির, যেখানে মা দুর্গা, ভগবান শিব ও হনুমানের পাশাপাশি রানি লক্ষ্মী বাই, কুঁওর সিং, ভগৎ সিং, সুভাষ চন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, চন্দ্রশেখর আজাদ, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ড. বি.আর. আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী এবং আরও বহু শহিদ ও দেশনেতার পূর্ণাঙ্গ মূর্তি স্থাপিত। ১৯৮৯ সালে প্রাক্তন প্রধান শিবরাম মাহাতোর উদ্যোগে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় এই মন্দির নির্মিত হয়। ধীরে ধীরে এটি গ্রামবাসীদের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শিব জ্যোতি ঝা জানান, দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীরদের এখানে দেবতার মতোই পূজা করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রস্তুতির আগে এখানে আসেন, মানত করেন এবং আশীর্বাদ নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। গ্রামবাসীদের মতে, এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এখানকার তরুণরা সফলভাবে সেনা ও সরকারি সেবায় যোগ দিয়েছেন।

দশ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার এই গ্রামে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নেই। সকলে মিলে মন্দির পরিষ্কার রাখেন, এমনকি প্রতি রবিবার পঞ্চাশের বেশি তরুণ এই কাজে অংশ নেন। সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত পূজার্চনা চলে দেব-দেবী ও শহিদদের উদ্দেশ্যে। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস—এই বীররা তাঁদের কাছে দেবতার চেয়েও মহান, কারণ তাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রেশম কুমারীর কথায়, “এটি আমাদের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র। এখানে করা মানত পূর্ণ হয়।” সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও গ্রামবাসীরা নিজেরা অর্থ ও শ্রম দিয়ে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করেন। পারনা গ্রামের এই শহিদ মন্দির শুধু ধর্মীয় ভক্তির নয়, দেশপ্রেমেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.