রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই নতুন মোড়। অভয়ার বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আর সেই বক্তব্যকে “মিথ্যা ও মানহানিকর” আখ্যা দিয়ে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে দায়ের হওয়া এই মামলায় ১৫তম বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট নোটিস জারি করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় অভিযুক্ত পক্ষ বা তাঁর আইনজীবীকে হাজির থাকতে হবে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই পদক্ষেপ শুধু আইনি লড়াই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক রণনীতির বড় দিকও।
কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে লেখেন—
“অভয়ার বাবার মিথ্যা, মানহানিকর বিবৃতির প্রতিবাদে আমার আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তীর চিঠির পর এবার মামলা করলাম। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মাননীয় 15th বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাস থেকে নোটিস ইস্যু। এখনকার নিয়ম অনুযায়ী 11 সেপ্টেম্বর 2025, সকাল সাড়ে দশটায় ওঁকে বা ওঁর আইনজীবীকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
যেহেতু উনি বিবৃতি দিয়েছেন, যেহেতু উনি আদালত থেকে বিজেপিকে নিয়ে নবান্ন অভিযান, সর্বত্র যান, তাই আশা করব এখন কোর্ট না এড়িয়ে নিজে আসবেন। তাঁর মেয়ের হত্যাকান্ডের তদন্ত নিয়ে যা বলার, আমার বিরুদ্ধেও যা প্রমাণ, সব কোর্টে দেবেন। তদন্তের স্বার্থেই ওঁর এটা করা উচিত। যদি উনি নিজে না আসেন, তাহলে বুঝব জেনেবুঝে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছেন। ওঁর প্রতি সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা স্রেফ রাজনৈতিক চক্করে নষ্ট করেছেন। মেয়ের ঘটনায় ন্যায়বিচারের কথা যখন বলছেন, নিজে কোর্টে এসে বলবেন না কেন?
উল্লেখ্য, উনি বলেছিলেন,” সিবিআই ঘুষ খেয়ে তদন্ত নষ্ট করছে। রাজ্য সরকার টাকা দিয়েছে। কুণাল ঘোষ সিজিওতে গিয়ে সেটল করেছে।”
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন ডাহা মিথ্যা বরদাস্ত করব না বলে মামলা করেছি। আমার বিরুদ্ধে যা প্রমাণ আছে, ওইদিন কোর্টে এসে মাননীয় বিচারককে দিন।
এই সংক্রান্ত আরও একটি মামলা করব। আইনজীবী অয়নের শরীর খারাপ, জ্বর। না হলে আজ দ্বিতীয় একটি মামলাও হয়ে যেত।”
কুণাল ঘোষের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, কোর্টে হাজিরার এই নোটিস নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। এখন দেখার বিষয় একটাই ১১ই সেপ্টেম্বর কোর্টে এই মামলার জল কোন দিকে গড়ায়।







