জীবন আর মৃত্যুর সীমানায় দাঁড়িয়ে এক কিশোর। হাসপাতালের বিছানায় বন্দি, সারি সারি তার ওষুধের বোতল পাশে। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— আর খুব বেশি আশা নেই। তাই মাত্র ১৩ বছর বয়সেই লিউ ফুয়ু নিজের ভাগ্য মেনে নিতে চাইল। মায়ের উদ্দেশে করুণ আর্জি জানাল এক চিঠিতে—
“মা, ওষুধগুলো ফিরিয়ে দিই। এগুলো কাজ করছে না। আর পয়সা নষ্ট করে কেনো, আমাকে বাড়ি নিয়ে চলো।”
চোখ ভিজে ওঠে এই চিঠি পড়লে। কারণ মধ্য চিনের হেনান প্রদেশের এই কিশোর লিউ ফুয়ু এক নয়, একসঙ্গে আটটি ভয়ঙ্কর রোগের সঙ্গে লড়ছে। বারবার আইসিইউতে ভর্তি হতে হচ্ছে। সর্বশেষ কিডনি বিকল হয়ে পড়ায় ইতিমধ্যেই পঞ্চমবার আইসিইউতে ভর্তি হয়েছে সে। ১৩ বছর বয়সে ওজন মাত্র ১৫ কেজি, শরীর ভেঙে পড়েছে প্রায় সম্পূর্ণ।
তবে ছেলের আর্জি মানতে নারাজ মা লি। ছেলেকে উত্তর দেন তিনি—
“যাই হোক না কেন, আমি তোমাকে বাঁচাবই।”
লি জানেন, চিকিৎসা বন্ধ মানে মৃত্যু ডেকে আনা। তাই তিনি ছুটে আসেন হাসপাতালে, ছেলেকে বোঝান— জীবনের জন্য এখন ওষুধ ও হাসপাতালই সবচেয়ে জরুরি।
লিউ ফুয়ুর আবেগঘন চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের হৃদয় ভেঙে যায়। কেউ লিখেছেন, “এই ছোট্ট ছেলের যন্ত্রণা সহ্য করার মতো নয়।” কেউ আবার প্রার্থনা করেছেন, মা ও ছেলের জন্য যেন অলৌকিক সুস্থতা আসে।







