বিদেশ

বিদেশি ছাত্রদের অনীহা: ট্রাম্পের নীতির কারণে সঙ্কটে আমেরিকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান

আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের অন্যতম উৎস হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এখন সেই উৎসই শুকিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব এবং একের পর এক কঠোর ভিসানীতির কারণে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলস্বরূপ, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। শিক্ষার্থীরা এখন ভিসার জটিলতা বা বাতিলের ভয়ে আমেরিকা না গিয়ে ব্রিটেনের মতো বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছেন।

ডিপল ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যানুয়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রাপ্তিতে মারাত্মক দেরি হচ্ছে, এমনকি বহু আবেদন বাতিলও করা হয়েছে। প্রশাসন সম্প্রতি একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সমাজমাধ্যমের কার্যকলাপ পর্যন্ত নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দেখে বহু ভারতীয় ও চীনা শিক্ষার্থী ক্যালটেক বা নর্থওয়েস্টার্ন-এর মতো নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত সেখানে ভর্তি হননি। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ছে। শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটি-তে বিদেশি ভর্তির হার ৩০ শতাংশ কমেছে। আর্থিক সঙ্কট এতটাই গভীর যে, জন্স্ হপকিন্স এবং নর্থওয়েস্টার্ন সহ প্রায় ৩৫টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই বাজেট কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কর্মী ছাঁটাই এবং গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থ কমিয়ে দেওয়া। ট্রাম্পের ‘আমেরিকান ফার্স্ট’ নীতিই যে শিক্ষাক্ষেত্রে এমন বিপর্যয় ডেকে আনছে, তা স্পষ্ট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.