দুর্গাপুরে ওড়িশার এক মেডিক্যাল ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। একদিকে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনকে তুলোধনা করছে, অন্যদিকে কেন্দ্রের উপর আঙুল তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার বলেন, “ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ রুখতে কড়া আইনের প্রয়োজন। অথচ অপরাজিতা ধর্ষণ বিরোধী বিল সংসদে প্রস্তাবিত হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু মোদী সরকার এখনো তা আইনে পরিণত করেনি। এই রাজনৈতিক গাফিলতি ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে সমাজে।”
অভিষেকের অভিযোগ, “যখন শাসক সরকার নীরব থাকে বা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তখন তা অপরাধীদের পরোক্ষ আশ্রয় দেয়। এই নৈতিক দেউলিয়াত্বই দেখিয়ে দেয়, কারা সত্যিই নারীর সুরক্ষার পক্ষে।”
অন্যদিকে, বিজেপি কর্মীরা দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানার সামনে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভে বসেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভুক্তভোগীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছুই অবশিষ্ট নেই। RG Kar-এর পর এ রাজ্যে নারীরা আর নিরাপদ নয়।”
বিজেপির আইটি সেল ইনচার্জ অমিত মালব্য এক্স (X)-এ লেখেন, “দুর্গাপুরের আইকিউ মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তার অভিযোগে ওয়াসিফ আলি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।”
এদিকে রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অপরাধীদের কোনও রাজনৈতিক রঙে দেখা উচিত নয়। রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তদন্ত চলাকালীন সকলকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি।”
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, “এটি রাজ্যের নারী সুরক্ষায় তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। দ্রুত তদন্ত হোক, এবং আমরা দুর্গাপুরে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছি।”
একদিকে যখন প্রশাসন তদন্তে নেমেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলির তর্ক-বিতর্কে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন।







