খেলাধুলা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার মেসি, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজত্ব করছেন লিওনেল মেসি। এই দীর্ঘ ও সাফল্যে ভরা কেরিয়ারে বিশ্বের প্রায় সব শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধেই মাঠে নেমেছেন তিনি। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স কিংবা উরুগুয়ে—কেউই বাদ যায়নি। তবে একটি দেশের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত তাঁর অভিষেক হয়নি। সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বুধবার।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা। আর এই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের এক বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন ৩৯ বছর বয়সি মেসি। ২২ বছরের আন্তর্জাতিক সফরে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামবেন তিনি। একদিকে ফাইনালে ওঠার লড়াই, অন্যদিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের নাম জুড়ে দেওয়ার সুযোগ—সব মিলিয়ে ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

বিশেষ ম্যাচ নিয়ে মেসির অনুভূতি

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করার পর ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ম্যাচ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক। তাঁর কথায়, “এটা সত্যিই আমার কাছে খুব বিশেষ একটি ম্যাচ।”

কেন এই ম্যাচ আলাদা, সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন মেসি। তিনি বলেন, “আমার কেরিয়ারে ইংল্যান্ডই একমাত্র বড় দল, যাদের বিরুদ্ধে এখনও খেলিনি। তাই এই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা। ওরা দুর্দান্ত শক্তিশালী দল। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, তাও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারা নিঃসন্দেহে দারুণ অভিজ্ঞতা।”

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে হেরেছিল আর্জেন্তিনা। তবে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় সেই ম্যাচে দলে ছিলেন না মেসি।

কঠিন পথ পেরিয়ে শেষ চারে

শিরোপাধারীদের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে স্কালোনির দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্তিনা। প্রথম গোলটি আসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পায়ে, যার উৎস ছিল মেসির নিখুঁত কর্নার। পরে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।

এই ম্যাচে নিজে গোল না পেলেও দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর এটাই প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ, যেখানে তিনি গোল করতে পারেননি। শেষ ষোলোয় মিশরের বিরুদ্ধে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে নাটকীয় জয় তুলে নেয় আর্জেন্তিনা। তার আগে কেপ ভার্দেকেও অতিরিক্ত সময়ে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।

ইতিহাসের হাতছানি

টানা অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলার ধকল যে দলের উপর পড়েছে, তা স্বীকার করেছেন মেসিও। তাঁর কথায়, “এখন আমাদের কিছুটা বিশ্রাম দরকার। পরপর কঠিন ম্যাচের চাপ শরীরের উপর প্রভাব ফেলেছে। তবু আমরা জানি, লক্ষ্যপূরণের জন্য আমরা সঠিক জায়গাতেই রয়েছি এবং লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।”

২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্তিনা। সেই আসরে ১-০ গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এবার সেই হার শোধ করার সুযোগ মেসিদের সামনে। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ার স্বপ্নও দেখছে আর্জেন্তিনা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রথম বাধা ইংল্যান্ডকে টপকাতেই হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.