নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। নন্দীগ্রাম থেকে মমতার প্রার্থী হওয়ার জল্পনা নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে গিয়ে লড়ুন, লড়াইটা জমুক।’’ তাঁর কটাক্ষ, এর আগে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে মমতা পরাজিত হয়েছেন।
নন্দীগ্রাম আসনে মমতার সম্ভাব্য প্রার্থীপদ নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমার শেষ দিন।
এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ। দলের প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েনকে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, প্রতীক নিয়ে লড়াই চলতে থাকলে ভোটের সময়ই পেরিয়ে যাবে। বর্তমানে মমতা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের মধ্যে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দাবি-পাল্টা দাবি চলছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে কমিশনের।
রেজিনগর কেন্দ্র নিয়েও প্রশ্নের জবাব দেন দিলীপ। হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গ এবং বাবরি মসজিদ ইস্যুতে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত মানুষই ঠিক করবেন তাঁরা উন্নয়নকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কলকাতা পুরসভা নির্বাচন নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনেও দেখা যাবে।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাম্প্রতিক সমীক্ষা প্রসঙ্গে দিলীপের বক্তব্য, বছরের এই সময়ে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ওঠানামা করে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সমীক্ষার পিছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে পারে। একইসঙ্গে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু সরকারের নয়, সমাজেরও সমস্যা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের অন্দরের মতবিরোধ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দিলীপ। শেখ সুফিয়ানের বক্তব্যকে তিনি ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে মন্তব্য করেন। সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে।







