২০২২ সালের পুরভোটে বিজেপির টিকিটে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষমুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন অর্জুন সিংয়ের ভগ্নীপতি তথা নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং। দীর্ঘদিন শাসকদলের হয়ে সক্রিয় থাকলেও, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে অর্জুন সিং ফের বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই সুনীলকে আর তৃণমূলের কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। সেই সময় থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর ‘ঘরওয়াপসি’র জল্পনা।
সেই জল্পনায় যেন ঘি ঢেলে দিল বৃহস্পতিবারের দৃশ্য। গারুলিয়ায় ছটপুজোর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে গারুলিয়া পুরসভা সংলগ্ন রাস্তায় শুভেন্দুর গাড়ি থামতেই এগিয়ে এলেন সুনীল সিং। জনসমক্ষে শুভেন্দুর পা ছুঁয়ে প্রণাম, আর বিরোধী দলনেতার হাতে পদ্মফুল তুলে দেওয়ার দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় গুঞ্জন— তবে কি ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগেই অর্জুন ঘনিষ্ঠ সুনীল সিংয়ের বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন?
যদিও জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেছেন স্বয়ং সুনীল সিং। তাঁর দাবি, “আমি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। শুভেন্দু অধিকারী আমাকে দেখে গাড়ি থামালেন। বিধানসভায় একসঙ্গে কাজ করেছি। তাই সৌজন্যবশত দেখা করলাম। বড়দের সবসময় শ্রদ্ধা করি, তাই পায়ে হাত দিয়ে নমস্কার করেছি। কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।”
অন্যদিকে, শুভেন্দু-সুনীল সাক্ষাৎ ঘিরে যখন রাজনীতির পারদ চড়ছে, তখন বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া— “গারুলিয়ার মানুষ সবটাই জানে, গত লোকসভা ভোটে কারা তৃণমূল করেছে।”
রাজনৈতিক মহল বলছে, বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি বরাবরই ব্যক্তিগত সমীকরণে ভরপুর। আর সেই সমীকরণে শুভেন্দু–সুনীলের সাম্প্রতিক এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন জল্পনা ছড়াল— নোয়াপাড়ার রাজনীতিতে কি আবার বদলের হাওয়া বইছে?







