দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে জেলমুক্তির পথে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার দুপুরেই বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নাকতলার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। গত কয়েক মাস ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তৃণমূলের এই প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতা।
হাসপাতালের বাইরে সোমবার দুপুর থেকেই উপচে পড়া ভিড়। অনুগামীদের দাবি, “পার্থদা নির্দোষ, অবশেষে ন্যায় পেলেন তিনি।” সরশুনা থেকে আসা এক তৃণমূল সমর্থকের আবেগঘন বক্তব্য, “পার্থদা বেহালার রূপকার। উনি বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে এলাকা।”
সূত্রের খবর, পায়ের সমস্যায় ভুগলেও বর্তমানে শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল। তাই হুইলচেয়ারে নয়, গাড়িতে করেই ফিরবেন বাড়িতে। হাসপাতাল থেকে তাঁকে আনতে গিয়েছেন একাধিক ঘনিষ্ঠজন—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি সুজিত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দলীয় দায়িত্ব নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকেই যাচ্ছি পার্থদার পাশে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।”
এছাড়া নাকতলা থেকে বাইক নিয়ে অনুগামীরাও পৌঁছে গিয়েছেন হাসপাতালে। কেউ কেউ আবার ম্যাটাডর ভাড়া করে এসেছেন প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে ভিড় বাড়ছে ক্রমশ। তবে তুলনায় পুলিশের উপস্থিতি খুবই সীমিত, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৩ জুলাই নাকতলার বাড়ি থেকেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় প্রেসিডেন্সি জেলে থাকার পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মেলে মুক্তির পথ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪ নভেম্বরের মধ্যে মামলার প্রথম পর্যায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করার পরই মিলবে শর্তাধীন জামিন। সোমবার অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতেই আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেয়।
ফলে, সোমবার দুপুরেই প্রেসিডেন্সি জেল থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে যায় মুক্তির নথি। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাতায়কলমে জেলমুক্ত হতে চলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
আজ বিকেলেই হাসপাতাল ছাড়বেন পার্থ, নাকতলায় প্রস্তুতি চলছে অভ্যর্থনার।







