শীতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের আবহাওয়া ক্রমশ বদলাচ্ছে। আগামী তিন থেকে চার দিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ—দুই জেলাতেই কুয়াশার সম্ভাবনা বাড়বে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব সর্বাধিক হবে। বিশেষত উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঘন কুয়াশার আশঙ্কা বেশি।
এদিকে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। যদিও বাংলায় এর সরাসরি প্রভাব নেই, দুর্যোগ দেখা দেবে আন্দামান-নিকোবরে। সেখানে ইতিমধ্যেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজ, রবিবার থেকেই সামান্য নামছে রাতের তাপমাত্রা। শুষ্ক আবহাওয়ায় শীতের আমেজ স্পষ্ট। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জেলাগুলিতে তা ১৪–১৫ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করবে। রাতভর শিশির এবং ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রবিবার থেকে মঙ্গলবার—এই তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায়ই কুয়াশার দাপট বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া। যদিও দার্জিলিং-এর পার্বত্য অঞ্চলে হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টি হলে সেখানে পারদ আরও নামতে পারে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি।
কলকাতায় সকাল শুরু হবে কুয়াশা বা ধোঁয়াশা দিয়ে। পরে আকাশ পরিষ্কার। তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন নেই। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৫০ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে।
এদিকে ভিন রাজ্যে বৃষ্টি-দুর্যোগের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। কেরল, মাহে, লাক্ষাদ্বীপ, তামিলনাডু, পন্ডিচেরি, করাইকালে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আন্দামান সাগর, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার—কিছু এলাকায় তা ৬৫ কিলোমিটারও ছুঁতে পারে।
বঙ্গোপসাগরের সিস্টেম শক্তি বাড়াচ্ছে দ্রুত। শীতের শুরুতেই আবহাওয়ার এমন পালাবদল রাজ্যবাসীকেও রাখছে সতর্ক।







