ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখলে যে কোনো ক্রিকেটপ্রেমীর কপালে ভাঁজ পড়তে বাধ্য। টেস্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার, তার উপর দেশের মাটিতে পরপর দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এগুলি লজ্জারও বেশি কিছু। গত ৬৬ বছরে এমন খারাপ সময় দেখেনি দল, যেখানে সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই হারতে হয়েছে।
তবে এত বড় বিপর্যয়ের পরেও বোর্ডের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) সূত্র মারফত খবর, বোর্ডের শীর্ষ মহল থেকে গম্ভীরের উপর আস্থা কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ এই কোচকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। বোর্ড কর্তারা মনে করছেন, এই পরাজয়গুলি সত্ত্বেও গম্ভীরকে এখনই সরে যেতে বলা উচিত হবে না। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বোর্ড মনে করে গম্ভীর একটি নতুন প্রজন্ম নিয়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন এবং এই কাজ শেষ করতে তাঁর সময় প্রয়োজন। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, “তিনি যেভাবে চাইবেন, দল সেভাবেই চলবে। আমরা তাঁকে সবরকমভাবে সাহায্য করব।” অর্থাৎ, ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরেও আপাতত ভারতীয় ক্রিকেটের কৌশল নির্ধারণে শেষ কথা বলবেন গম্ভীরই।
গুয়াহাটি টেস্টের পর যখন সাংবাদিকরা তাঁর ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন গম্ভীর অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। নিজের সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এশিয়া কাপের মতো সাফল্য তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দলের খারাপ সময়েও তিনি শিক্ষানবিশ হিসেবে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। যদিও বোর্ডের আস্থা অটুট, তবুও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজ শেষ হলেই বোর্ড কর্তারা কোচের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন। সেখানে বিশেষত টেস্ট ক্রিকেটে দলের এই অবনতির কারণ নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। কোচের পরামর্শ নিয়েই আগামী দিনের কৌশল এবং দল গঠনের নীলনকশা তৈরি করবে বিসিসিআই।
আপাতত, বোর্ড প্রধান কোচকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে চাইছে।







