ঘুমের মধ্যেই ১১ তলা থেকে নীচে পড়ে গিয়েছিলেন এক প্রৌঢ়। মুহূর্তের ব্যবধানে নিশ্চিত মৃত্যুর হাতছানি। কিন্তু ভাগ্যের জোরে রক্ষা। নবম তলার জানলার ধাতব গ্রিলে আটকে গিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেন তিনি। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গুজরাতের সুরাত শহরে।
ঘটনাটি ঘটেছে সুরাতের জাহাঙ্গিরাবাদ এলাকায়। প্রৌঢ়ের নাম নিতিন আদিয়া (৫৭)। তিনি ওই এলাকার একটি বহুতল আবাসনের ১১ তলার ফ্ল্যাটে থাকেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে খোলা জানলার পাশে শুয়ে ঘুমোচ্ছিলেন নিতিন। ঘুমের ঘোরেই আচমকা শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে জানলার বাইরে গড়িয়ে পড়েন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোজা নীচের দিকে পড়তে শুরু করেন।
১১ তলা থেকে পড়ে গেলে বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে নবম তলার একটি ফ্ল্যাটের জানলায় লাগানো ধাতব গ্রিলে আটকে যান নিতিন। তাঁর মাথা ছিল নীচের দিকে, পা উপরের দিকে ঝুলছিল। প্রায় ঘণ্টাখানেক সেই অবস্থাতেই জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালাতে হয় তাঁকে। আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। সেই চিৎকার শুনেই আশপাশের বাসিন্দারা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন।
ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছয় দমকল ও উদ্ধারকারী দলের কাছে। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাজ শুরু হয়। দড়ি, বেল্ট এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের সাহায্যে ১১ তলা থেকে নামিয়ে আনা হয় নিতিনকে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁকে নিরাপদে নবম তলার জানলার কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়।
উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা থাকলেও আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এই অলৌকিক রক্ষার ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিবারের সদস্যেরা। উদ্ধারকারীদের দ্রুততার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।







